Published : 29 Sep 2025, 03:38 PM
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যে বাংলাদেশি নিহতের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেই তরুণ দেড় বছর আগে দেশ ছাড়েন বলে পরিবারের ভাষ্য।
গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১৭ সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করে দেশটির সংবাদমাধ্যম সামা টিভি।
অবশ্য ওই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পাকিস্তানি সাংবাদিক জাওয়াদ ইউসুফজাই এবং পাকিস্তান ও আশপাশে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মাহাজের এক্স পোস্টে দেওয়া ছবি দেখে ওই তরুণকে ফয়সাল হোসেন বলে শনাক্ত করেছে মাদারীপুরের এক পরিবার।
তার ভাই আরমান মোড়ল বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াজ মাহফিল এবং হাটবাজারে ঘুরে তছবিহ, টুপি, আতর বেচতেন ফয়সাল। পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে গত বছরের মার্চে তিনি দুবাই যাওয়ার কথা বলে দেশ ছাড়েন।
তাদের বাড়ি মাদারীপুর সদরের কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী গ্রামে। ফয়সালের বিষয়ে জানতে তার বাবা আউয়াল মোড়লের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফয়সালের চাচা আব্দুল হালিম মোড়ল বলেন, “ভাতিজার বিষয়ে জানতে পারি গত ঈদুল আজহার সময়। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সে আফগানিস্তান আছে। ২০২৪ সালের মার্চে দেশ ছাড়ার প্রায় ৬ মাস পরে সে তার বড় ভাই আরমান মোড়লের কাছে মোবাইল ফোনে কল করে বলে, দুবাই আছে এবং ভালো আছে। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে জবাব দিত না সে।”
ফয়সালের বিষয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাক জেলার দর্শ খেল গ্রামে শুক্রবার রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ১৭ জন নিহতের কথা বলা হচ্ছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বরাতে সামা টিভি লিখেছে, শুক্রবারের আগে নিরাপত্তা বাহিনী যেসব অভিযান চালিয়েছে, সেসবে দুই থেকে তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তারা ধর্মীয় প্রচারের কথা বলে আফগানিস্তানে গেলেও পরে ‘উগ্রপন্থি সন্ত্রাসী সংগঠনে’ নাম লেখান।