Published : 14 Aug 2025, 07:34 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থানান্তরসহ তিন দাবিতে গণঅনশনে বসেছেন একদল শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
দাবিগুলো হলো- ভোটকেন্দ্র আবাসিক হল থেকে অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থানান্তর ও পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা, অনলাইনভিত্তিক অপপ্রচার গ্রুপ ও পেইজ বন্ধ এবং সাইবার বুলিং রোধে কার্যকর সেল গঠনের পাশাপাশি হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ভোটাধিকার বাতিল করা।
অনশনে বসা ফুয়াদ রাতুল বলেন, “রাকসু নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র হলে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ আমরা শুরু থেকেই অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানিয়ে আসছি কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবির তোয়াক্কা করেনি।
“সবশেষ সংশোধিত তফসিলেও আবাসিক হলেই ভোটকেন্দ্র রাখা হয়েছে। শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্র অধিকার পরিষদ এর বিরোধিতা করছে। এ ছাড়া ছাত্রদল, ইসলামি ছাত্র আন্দোলনসহ অন্য সংগঠনগুলোও আমাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে।”
প্রশাসন আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এই ছাত্রনেতা।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী হলে থাকেন না। হলে ভোটকেন্দ্র হওয়ায় তাদের জন্য অসুবিধা। আমরা এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের অধিকাংশই হলে ভোটকেন্দ্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে উদ্বেগ জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বরং শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ এই ছাত্র নেতার।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে ভোটকেন্দ্রে অবশ্যই সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে দাবি মেহেদী মারুফের।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংগঠক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল, ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ, ছাত্র ফেডারেশনের সদস্যসচিব ওয়াজেদ শিশির অভি, ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার এবং অর্থনীতি বিভাগের তৌফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী গণঅনশনে বসেছেন।
এর আগে সকালে একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা দেন তারা।