Published : 29 Jan 2025, 09:05 PM
‘দুর্নীতিকে’ প্রত্যেকটি অবিচারের ‘বীজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন।
তিনি বলেছেন, “৫ অগাস্টের মত বিভিন্ন সময় যে আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছে, তার কারণ হল, সমাজে আমরা এক ধরনের অবিচার লালন করি। আর প্রত্যেকটি অবিচারের বীজ হল দুর্নীতি। আমাদের সবার আকাঙ্খা, ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন দুর্নীতি প্রতিরোধ ও প্রতিরোধের স্বদিচ্ছা।”
বুধবার কুমিল্লায় কমিশনের ১৭০তম গণশুনানির উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “আপনারা এটি যদি নিশ্চিত করতে পারেন, যারা দুর্নীতি দমন কমিশনে কাজ করছেন তারা দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, তাহলে দুর্নীতি দমনে বেশ খানিকটা অগ্রগতি হচ্ছে বলা যায়।”
‘দুর্নীতি দমনে প্রধান সংকট সেবাদাতাকে নিয়ে’ মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “সেবা গ্রহীতার ভালো সেবা পাবার প্রত্যাশা থাকতেই পারেন। সেবাদাতা যারা, তারা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার না করে দায়িত্ব মনে করি, তাহলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যাবে।”
এ সময় আরও বক্তব্য দেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহ্সান ফরিদ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে দুদকের এটিই প্রথম গণশুনানি।
শুনানিতে চারটি বুথে সেবাবঞ্চিত জনসাধারণের ১২১টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে থেকে ৪০টি অভিযোগ বাছাই করে উপস্থাপিত হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড, বিদ্যুৎ বিভাগ, জেলা সদর হাসপাতাল, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, জেলা পুলিশ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবা গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানি করা হয়।
এতে কুমিল্লা পূবালী ব্যাংকের প্রধান শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে মামলা, ভেরিফিকেশনের নামে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহন, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম করে টাকা নেওয়া, অনিয়ম করে গ্যাস গ্যাস সংযোগ দেওয়া, ভুয়া বিদ্যুতের বিল সংক্রান্ত গ্রাহক হয়রানি, হাসপাতালে সিটের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার মত স্পর্শকাতর অভিযোগের শুনানি করা হয়।
এ সময় দুদকের কর্মকর্তারা অভিযোগ শুনে সিদ্ধান্ত দেন।