১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে হাইমচর নদী রক্ষা বাঁধ

এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Apr 2026, 03:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকার নদী তীর রক্ষা বাঁধ।

সম্প্রতি উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর চর ড্রেজার দিয়ে কেটে নেওয়ায় সেখানে এখন অথৈ জল। এতে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বালু উত্তোলনের ঘটনায় মঙ্গলবার সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অনুযায়ী বাঁধে ব্লক দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশেপাশে কোনো খালি জায়গা না থাকায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা মেঘনার তীরে জেগে ওঠা বিশাল চরে নিয়মিত খেলাধুলা করত। সোমবার বিকালে সেখানে ফুটবল খেলার আসর বসেছিল।

কিন্তু মঙ্গলবার সকালে গিয়ে তারা দেখেন, রাতের আঁধারে প্রভাবশালী মহল ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নেওয়ায় মাঠের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন শুধু থইথই পানি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগের দিন ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে এসে দেখি মাঠটাই নাই। ড্রেজার দিয়ে সব বালু নিয়ে গেছে। বালু কাটার ফলে নদী রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিতে। বাঁধ ভেঙে গেলে ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের করা মামলার আসামিরা হলেন- হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেন মিজির ছেলে আব্দুল কাদের (২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার স্বরুপকাঠি এলাকার মো. নুরুল আমিনের ছেলে মো. আইয়ুব আলী (২০), নাজিরপুর থানার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে মো. আমান উল্যাহ (১৯), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার ঢাকেরহাটি এলাকার মো. শহিদুল আকনের ছেলে মো. মোরশালিন (১৯), পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার কলারদোয়ানিয়া এলাকার মো. আবু হানিফ ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (২৩), হাইমচর থানার উত্তর বগুলা গ্রামের ছানাউল্লাহ মিজির ছেলে দোলোয়ার মিজি (৪৪) এবং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের চরভাংগা গ্রামের কাদের গাজীর ছেলে মনির হোসেন জুয়েল (৩৫)।

হাইমচর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এর মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামি দেলোয়ার ও জুয়েলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছি। বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”