Published : 20 Mar 2026, 12:28 PM
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।
শুক্রবার চাঁদপুর, জামালপুর, সাতক্ষীরা ও ঝালকাঠিসহ আরও কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রামে আগেভাগে ঈদ পালন হয়েছে। সকালে এসব জেলার মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও আলাদা স্থানে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না গেলেও আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এবং দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে এসব জেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মানুষ একদিন আগেই ঈদ পালন করে আসছেন।
চাঁদপুর

চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ‘সাদ্রা দরবার শরীফে’ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান ঈদের জামাতে ইমামতি করেন দরবারের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।
মুফতি জাকারিয়া বলেন, “এসব গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।”
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “কোরআন ও হাদিসের আলোকে ১৯২৮ সাল থেকে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ধর্মীয় রীতিনীতি চালু করেন সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী।
“তার মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে এ মতবাদ অনুসরণ ও প্রচার অব্যাহত রেখেছেন।”
জামালপুর

শুক্রবার সকালে জেলার ২১ গ্রামের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সরিষাবাড়ী উপজেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদের ঈমাম আজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, তারা রোজা থেকে শুরু করে সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের সময়সূচি অনুসরণ করে করেন। ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
তিনি বলেন, “সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তাই আমরা একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করি। এখানে শতাধিক নারী-পুরুষ ঈদের জামাত আদায় করেন।”
সাতক্ষীরা

এ জেলার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ একদিন আগেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
শুক্রবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে কুশখালী বাউকোলা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় প্রধান ঈদের জামাত। এতে ইমামতি করেন মসজিদ ও ঈদের জামাতের ঈমাম মহব্বত আলী।
তিনি বলেন, “সারাবিশ্বে যদি একই দিন হিজরী নববর্ষ হয় তবে একই দিনে ঈদ ও রোজা আয়োজন যুক্তিসঙ্গত।”

বগুড়া
বগুড়ার গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার চারটি গ্রামে ঈদের জামাত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় গাবতলী উপজেলার রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম আজোয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা লাইলাতুল কদর।
আগাম ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা এবং ঈদ করা নিয়ম। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন।
এছাড়া সোনাতলার কালাইহাটা দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাতের ইমামতি করেন শামীম হোসেন ।
ধুনট উপজেলার হাশুখালী গ্রাম ও বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গা বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করেন মো. আব্দুল আলীম।

বরিশাল
বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহসূফী মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আবু সাইদ।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৭০টি মসজিদে প্রায় দশ হাজার পরিবার ঈদ উদযাপন করছে বলে জানিয়েছেন শাহসূফী মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন মিঠু।
মাওলানা আবু সাইদ বলেন, “আমাদের মূল ভিত্তি হলো-বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে, যদি তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হয় এবং জ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়, তাহলে সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা রোজা ও ঈদ পালন করি।”

লক্ষ্মীপুরে
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্মীপুরে ১১টি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
রুহুল আমিন বলেন, “একমাস সিয়াম সাধনার পর আজ আমরা সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করছি।”