Published : 22 Apr 2026, 02:26 PM
কুষ্টিয়ার হরিপুর সীমান্তে পদ্মা নদীতে নিয়মিত টহলের সময় নৌ-পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এতে নৌ-পুলিশের এক কর্মকর্তা, চার সদস্য এবং নৌকার মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সীমানাঘেঁষা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে রাজশাহী নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বালি কাটার অভিযোগ পেয়ে আমাদের অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে অভিযানে গেলে হামলার শিকার হন। হামলাকারীদের শটগানের গুলিতে আমাদের পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।”
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম, সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া।
আহত নৌকার মাঝির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির একটি দল নৌকায় করে পদ্মা নদীতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক পর্যায়ে তারা কুষ্টিয়া সীমানার হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
রাত ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি চলে। এতে টহল দলের ছয় সদস্য আহত হন। হামলাকারীরা সংখ্যায় বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাকিরা পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় মাছধরা জেলে ও বালুবাহী নৌকার মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীর চরভবানীপুর এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ট্রলারে লোড করার সময় গভীর রাতে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত দেড়টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকটি স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয় এবং পরে সেগুলো দ্রুত গতিতে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় আশপাশে থাকা লোকজন চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েকজন জেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌ-পুলিশের একটি টহল নৌকায় আহত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের নদীর তীরবর্তী এলাকায় আনা হয়।
ফজরের কিছু আগে পাবনা ও ঈশ্বরদী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
কুষ্টিয়ার চর ভবানীপুর এলাকার জেলে আজিজুল বলেন, “ঠিক বুঁইজি উঠতি পাল্লাম না, প্রতিদিনই তো যেকেনে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটে সেকেনে পুলিশ আসে, তাদের সঙ্গে কতাবাত্রা বুইলি চইলি যায়। আইজ আবার কি এমন ঘইঠলি যে পুলিশের সাতেই গুলাগুলি হলি।”
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বলেন, “বুধবার সকাল ১০টার দিকে লক্ষীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত শাহিনুর হক নামের এক পুলিশ সদস্য বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় মেডিকেলের ২৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। তবে তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।”
পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, “নদীতে টহল দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এসপি বলেন, “যেহেতু বিষয়টা নৌ-পুলিশের, আমরা তাদের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তারা বিষয়টা দেখছেন।”
নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সোহেল রানা বলছেন, “নৌ-পথে এমন পরিকল্পিত ও দুঃসাহসিক হামলার পেছনে কোনো বাহিনী নাকি অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র জড়িত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।”
এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।