Published : 07 May 2023, 08:45 PM
শখের বশে পান চাষ শুরু করলেও এখন সেই পান বিক্রি করেই চলছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার জহিরুলের সংসার।
এক সময় অন্যের দোকানে সেলাইয়ের কাজ করে অভাব-অনটনে চার সদস্যের সংসার চলতো তার। এখন পান চাষ করে তিনি সাবলম্বী হয়েছেন। তাকে দেখে পান চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন এলাকার অনেক বেকার যুবক।
বাঙালির আতিথেয়তার অন্যতম অনুসঙ্গ পান। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে পান খান না এমন মানুষ কমই আছে। বিভিন্ন পালা-পার্বণ, বিয়েসাদী, উৎসব-অনুষ্ঠানে ভোজের পর যেন পান থাকতেই হবে। সেই পান চাষ হচ্ছে এখন টাঙ্গাইলের নাগরপুরে জহিরুলের বাগানে।
জহিরুল ইসলাম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের প্রয়াত সরব আলীর ছেলে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে তার সফলতার আদ্যপান্ত নিয়ে কথা হয়।
তার দাবি, নাগরপুর উপজেলায় তিনিই প্রথম পান চাষ শুরু করেন। এক বন্ধুর পরামর্শে রাজশাহী থেকে মিষ্টি জাতের সাড়ে পাঁচ হাজার পানের ডগা এনে ভিটে বাড়ির ২৫ শতাংশ পতিত জমিতে রোপন করেন। চারিদিকে পাটখড়ির বেড়া ও উপরে ছাউনি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা করেন। এতে তার খরচ হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

৯ মাস পর থেকে বরজ থেকে পান তোলা শুরু করেন তিনি। স্থানীয় বাজার, চায়ের স্টল ছাড়াও রাজশাহীতে পান বিক্রি করছেন জহিরুল। এতে কয়েক মাসেই খরচের পুরো টাকা উঠে আসে তার।
তিনি আরও জানান, পান চাষের জন্য জমি উপযোগী কিনা তা নিয়ে প্রথমে সংশয়ে ছিলেন। সেই সংশয় কাটিয়ে এখন সফলতার মুখ দেখছেন।
কোনো রকম সমস্যা দেখা দিলে রাজশাহী থেকে অভিজ্ঞ দুএকজন পানচাষি এনে তাদের পরামর্শ নেন।
তার ভাষ্য, প্রথমে শখের বসে শুরু করলেও এখন বরজের পরিচর্যা করেই দিন কেটে যায় তার।

জহিরুল বলেন, “পানের বাগান করে আমার ভাগ্য বদল হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কিংবা কৃষি অফিস থেকে একটু সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে পানের বাগান করার লক্ষ্য আছে।”
এদিকে, জহিরুলের এ সাফল্য দেখে খুশি তার প্রতিবেশিরা। তারাও পান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
মো. মোনায়েম হোসেন নামে এক কৃষক জানান, জহিরুলের পান চাষ দেখে বুঝতে পেরেছেন, অন্য ফসলের চেয়ে পান চাষ অনেক সহজ। এতে খরচ ও শ্রম অনেক কম দিতে হয়। তাই তিনিও পান চাষের চিন্তা করছেন।
মজিবর রহমান নামের অপর এক কৃষক জানান, প্রমাণ হয়েছে, টাঙ্গাইলের জমি পান চাষের উপযোগী। তাই নিজের জমিতে পান চাষ শুরু করবেন তিনিও।
নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, “উপজেলায় পান চাষে জহিরুল ইসলাম একজন সফল উদ্যোক্তা। পান যেহেতু অর্থকরী ফসল। তাই যারা পান চাষে এগিয়ে আসবেন, তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”