১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এএসপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

এএসপি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সুবিধা নেওয়ার জন্য এই নাটক সাজিয়েছেন।”

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Oct 2024, 10:56 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:19 PM

এক জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। 

রোববার ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ও ৭ নম্বর আমলি আদালতে নগরকান্দা-সার্কেলের সাবেক এএসপি মো. সুমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সালথা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম।

মামলায় এএসপির সাবেক দেহরক্ষী কনস্টেবল আরিফ হোসেনকেও (৩৫) আসামি করা হয়েছে। 

বাদী পক্ষের আইনজীবী জাহিদুল হাসান লাবলু বলেন, বিচারক মো. মারুফ হুসাইন মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের মার্চ মাসে এএসপি সুমিনুর রহমান ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দিলে একরাতও বাড়িতে ঘুমাতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তিনি বাদীকে হেনস্তা ও আর্থিকভাবে ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন।

২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সালথার রামকান্তপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি গ্রামের ইজিবাইক চালক আলী মাতুব্বরকে হত্যা করা হয়। ২০২২ সালের ১ মার্চ নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই হত্যা মামলাটি তদন্তের সঙ্গে এএসপি সুমিনুর রহমান জড়িত ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, ওই বছরের ২৬ মার্চ সুমিনুর রহমান বাদীকে তার অফিসে যেতে বলেন। যাওয়া মাত্রই হাতকড়া পড়ানো হয়। পরে তাকে বেদড়ক মারপিট করে এবং বিএনপি করায় তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। 

পরে বাদীর স্ত্রী আট লাখ টাকা এএসপির দেহরক্ষীকে দেন এবং বাকি দুই লাখ টাকা দেওয়ার জন্য নির্যাতন করলে আরও এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। 

মামলার বাদী কামরুল ইসলাম বলেন, “নির্যাতনের কারণে দীর্ঘদিন কারাগারের মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এরপর আমি জেল থেকে বেরিয়ে মামলা করার সাহস পাইনি। তবে বর্তমানে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করায় মামলাটি করেছি। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব।”

তবে চাঁদাবাজির ঘটনাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করে বর্তমানে পুলিশ সদরদপ্তরে দায়িত্বরত জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সুমিনুর রহমান বলেন, “আলী মাতুব্বর হত্যার তদন্তে কামরুল আসামি হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই মামলাটি এখনো পিবিআই তদন্ত করছে। কামরুল আসামি হওয়ায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সুবিধা নেওয়ার জন্য এই নাটক সাজিয়েছেন।”