Published : 13 May 2026, 02:17 PM
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি সাত বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।
গাড়িটি মেরামতে বাজেট সংকটের কথা বলছেন চেয়ারম্যান। আর বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করছেন উপজেলা প্রশাসন। ফলে ৩৫ হাজার মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সটি কেনার যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, এলাকার ৩৫ হাজার বাসিন্দার জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে ‘স্বল্প ব্যয়ে’ রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে তা ভেস্তে গেছে।
যেহেতু পরিষদের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল, তাই স্থানীয় মানুষ জরুরি প্রয়োজনে অটোরিকশা, ভ্যান বা মাইক্রোবাসের মতো ব্যক্তিগত যানবাহন ভাড়া করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক ব্যয়বহুল।
এতে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ইউনিয়নবাসীকে।
মধুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা লাভলু পাল বলেন, “জরুরি মুহূর্তে রোগীদের অন্য যানবাহনে করে দূরের হাসপাতালে নিতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।”
মধুপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী আব্দুল খালেক বলছিলেন, “একদিন রাতে আমার মায়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাম্বুলেন্সে জন্য যোগাযোগ করি। তখন জানতে পারি, গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট।
“পরে বাধ্য হয়ে ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স এনে মাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লেগেছে।”
একই এলাকার রহিমা বেগম নামের এক গৃহিনী বলেন, “গ্রামের মানুষের জন্য এই অ্যাম্বুলেন্সটাই ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে সেটি না পেয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে দূরে যেতে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
রণচণ্ডিপুর এলাকার দিনমজুর সোহেল রানা বলেছেন, “মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের এই অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে বদরগঞ্জ উপজেলা সদর বা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে রোগীদের খরচ হতো মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস ভাড়া করতে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
“গরিব মানুষের পক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত করা দরকার।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলছিলেন, “অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। অথচ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য এর ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত সংস্কার না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিনুর আলম বলেন, তার ইউনিয়নে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার রোগীদের কম খরচে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা চিন্তা করে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ‘এলজিএসপি-২’ প্রকল্পের অর্থায়নে অ্যাম্বুলেন্সটি কেনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “প্রথম চার বছর অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়মিত চলাচল করত। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনজন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হতো। কিন্তু ২০১৯ সালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে সেটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে।”
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে মুধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আলম বলেন, “গাড়িটি পুরোপুরি মেরামত করতে প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এত টাকা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।
“গাড়িটি সাড়াতে প্রয়োজনীয় টাকা চেয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) একাধিক জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বদরগঞ্জের ইউএনও আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”