Published : 08 Aug 2025, 07:34 PM
জয়পুরহাটের পুলিশ হেফাজতে থাকা এক আসামিকে নির্যাতনের অভিযোগে আক্কেলপুর থানার এসআই গোলাম রব্বানীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জেলার এসপি মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, “গোলাম রব্বানী পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছেন বলে আদালত সূত্রে একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আরিফুল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।
তবে এসআই গোলাম রব্বানী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তিন আসামির কাউকেই হোফাজতে নির্যাতন করিনি। আসামি মাসুদ রানা এজেন্ট ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ছিলেন। তিনি ধরা পড়ার সময় টাকা আত্মসাতের কথা প্রকাশ্যে গ্রাহকদের সামনে স্বীকার করেছেন। এখন মাসুদ রানা মামলা থেকে বাঁচতে এই কৌশল খুঁজছেন।”
গত মার্চে ইসলামী ব্যাংকের আক্কেলপুর এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের বিপুল টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় থানা ও আদালতে আলাদা আটটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন, এজেন্ট শাখার মালিক জাহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক রিওয়ানা ফারজানা ও ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা।
গ্রেপ্তারের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামি পক্ষের আইনজীবী রায়হান নবী বলেন, দুটি মামলায় সোমবার আসামিদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম রব্বানী হেফাজত থেকে আসামিদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রের্কডের আবেদন করেন।
আইনজীবী রায়হান নবী বলেন, এক মামলায় মাসুদ রানাকে আরও পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে আদালত এ আবেদন নাকচ করে।
রায়হান নবী আরো বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিয়ে আসামি মাসুদ রানা আদালতে অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসআই গোলাম রব্বানী তাকে জানালার সঙ্গে হাতকড়া লাগিয়ে বেধড়ক মারপিট করেছেন।
এ ছাড়া আসামি জাহিদুল ইসলাম ও রিওয়ানা ফারজানাকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ মোবারক বলেন, নিবন্ধিত চিকিৎসক দিয়ে আসামি মাসুদ রানার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আগামী ১০ অগাস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য তারা একটি নির্দেশনা পেয়েছেন।
অন্যদিকে, আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ‘চরম অবহেলার’ অভিযোগ ওই আদালতের বিচারক আরিফুলের সই করা আদেশে আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে আগামী ১৭ অগাস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক।