Published : 20 Aug 2025, 02:43 PM
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর ‘পুলিশের লাঠিপেটার’ ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে উখিয়ার ফলিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কক্সবাজারের সংগঠক জিনিয়া ও শিক্ষক প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম শামীমসহ অন্তত ২০ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, জিনিয়াসহ তাদের দুজন সহযোদ্ধাকে পুলিশ আটক করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে উখিয়া থানার ওসি মো. অরিফ হোসেন ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জমিসউদ্দিনসহ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মোবাইলে কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৪০–৫০ জন চাকরিচ্যুত শিক্ষক সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছিলেন। আশ্রয় শিবিরগামী বিভিন্ন এনজিও সংস্থার গাড়ি আটকে দিচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ হঠাৎ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
‘নির্দেশ অমান্য’ করায় আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশ লাঠিচার্জ’ শুরু করে।
স্থানীয় সাংবাদিক ইফতিয়াজ নূর বলেন, তিনি দেখেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কক্সবাজারের সংগঠক জিনিয়াসহ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ‘পুলিশের লাঠিচার্জে’ তিনজন আহত হয়ে উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন বলেন, “জিনিয়া আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানাতে সেখানে গেছিল। উখিয়া কোনো আলাদা দেশ নয় যে এখানে আন্দোলন করা যাবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আটকদের সম্মানের সহিত ছেড়ে দিতে হবে।”
এ ঘটনার পর উখিয়া সদর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয় বাংলাদেশি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে গত জুলাইয়ে প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামেন।
গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তারা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় উভয় পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে; যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের দাবি, প্রশাসন সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আশ্রয়শিবিরে সাড়ে চার হাজারের অধিক শিক্ষাকেন্দ্র চালু আছে। এসব ‘লার্নিং সেন্টারে’ প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার শিশু পড়াশোনা করে।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অবরোধ, যানজটে ভোগান্তি