Published : 06 Mar 2025, 02:52 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের মেড্ডা বাস স্টেশনে একটি দোকানে মানুষের জটলা। সামনেই যেতেই দেখা গেল, সবার হাতে হাতে শরবতের গ্লাস। তাতে চুমুক দিতেই প্রশান্তির ছাপ ভেসে ওঠে সবার চেহারায়।
শরবতের এ দোকানির নাম মো. শাহ আলম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পূর্ব মেড্ডার মো. খায়ের মিয়ার ছেলে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লেবুর শরবত বিক্রি করেন তিনি।
গত ৮ বছর ধরে লেবুর শরবতের এ দোকান চালিয়ে আসছেন ৩২ বছর বয়সী এ যুবক। তার শরবতের স্বাদ, আর পরিচ্ছন্নতার কারণে বেশ জনপ্রিয় তিনি। জেলার বাইরে থেকে আসা লোকজনও একবার হলেও ঢুঁ মারেন এই শরবতের দোকানে।
শাহ আলম বলছিলেন, শররবত বিক্রি করেই ছয়জনের সংসার চলে তার। তার সংসারে বাবা-মা ছাড়াও স্ত্রী, এক ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। বছরের অন্য সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শরবত বিক্রি করেন তিনি। কিন্তু রমজান মাসে চলে, বিকাল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। বছরের ৭-৮ মাস শরবত বিক্রি করেন। আর শীতের সময় গাড়ি চালান। কারণ, শীতে শরবত তেমন চলে না।
শরবতের ক্রেতা উত্তর মেড্ডা এলাকার পুলক দাস বলেন, “আমি ঢাকায় চাকরি করি। ঢাকা থেকে বাড়ি এলেই, এখানে এসে লেবুর শরবত খেয়ে যাই। আমি চার বছর ধরে এখানে শরবত খাচ্ছি।

“আমার স্ত্রী একদিন এখানে শরবত খাওয়ার তারও ভালো লাগে। ইদানিং সে সবসময়ই শরবত খেতে আসে। আমিও বাড়ি আসলে নিয়ে আসি।”
মেড্ডার পাইকপাড়ার আকিফ টিউটরিয়াল স্কুলের শিক্ষক মো. সালমান শাহ, আলমের দোকানের নিয়মিত ক্রেতা।
তিনি বলেন, “শাহ আলম খুব যত্ন নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবে শরবত বানিয়ে দেয়, এটা আমার ভালো লাগে। ইফতারের পর এক গ্লাস শরবত শরীরকে সতেজ করে। বন্ধুদের নিয়ে ৩-৪ বছর ধরেই শাহ আলমের হাতের শরবত খাই।”
শরবত বানাতে কি কি উপাদান দিচ্ছেন, “এমন প্রশ্নে বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, লেবু, বরফ, তালমিছরি, চিনি, মধু ব্যাবহার করি। গরম বেশি থাকলে দিনে ৪ হাজার টাকার বিক্রি হয়। রেগুলার ৩ হাজার টাকা।
“সর্বোচ্চ একদিনে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করি। দিনে ৩ হাজার টাকা বিক্রি করলে ১২’শ টাকা লাভ হয়।”
ইফতারের পর দোকোনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সদরের সুহীলপুর ইউনিয়নের ঘাটোরা গ্রামের মো. শুহিন। তিনি বলেন, “সবসময় শাহ আলমের শরবত খাই। ইফতারের পর শরবতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।”
টি এ রোড এলাকার আরেফিন শোভন বলছিলেন, “আরেহ শাহ আলম খবি ভালো শরবত বানায়। এক গ্লাসেই প্রাণ জুড়ায়।”