Published : 24 Jun 2026, 08:52 PM
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বক্তব্য দিয়েছে, তা ‘সন্তোষজনক' না হওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ‘সন্তোষজনক নয়’।
মুখপাত্র বলেন, তথ্য উপদেষ্টা যে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, তা আগেই ভারত সরকারকে ‘সঠিক কূটনৈতিক চ্যানেলে’ জানানো হয়েছিল।
“তা স্বত্বেও তাকে ঘিরে দিল্লি বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক।”
আইওআরএর দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে ১৪ জুন সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ-উর রহমান।
১৫ ও ১৬ জুনের ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল জাহেদ-উর রহমানের।
কিন্তু বিমানবন্দরে তাকে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টিও তারা স্পষ্ট করছিল না। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিনের খবরে বলা হয়, জাহেদ-উর রহমানকে বেশ কিছু সময় বিমানবন্দরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিলেও উপদেষ্টা জাহেদ তাতে সম্মত হননি।
পরে তিনি ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে পরদিন ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি।
ওই ঘটনার পরদিন ১৫ জুন ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পুরো ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয় আগেই ভারত সরকারকে কূটনৈতিকপত্রে জানানো হয়েছিল। যখন তাকে বিমানবন্দরে থামিয়ে দেওয়া হয়, তখন তার সঙ্গে ছিলেন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও।
এর মধ্যে ভারত থেকে কোনো বক্তব্য না আসার মধ্যে মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়ালকে।
উত্তরে তিনি বলেন, তিনি সার্ক ভিসায় ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে এখানে এসেছিলেন। ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কমিটির ২৮তম সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার।
“দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়, যেটা ছিল বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করা। অবশ্য তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় ফিরে গিয়েছিলেন।”
একই ব্রিফিংয়ে গাইবান্ধায় রাম মূর্তির অবমাননার বিষয়ে এক প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাণধীর জয়সওয়াল।
সে বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে নিজ ভূখণ্ডের সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রত্যেক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই ভারত থেকে ফিরে এসেছি: উপদেষ্টা জাহেদ