Published : 17 Jul 2024, 12:23 PM
কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নয়টি উপজেলার ৩ হাজার ৮৭ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এসব খামারির প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম মৎস্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪৫০ হেক্টর আয়তনের এসব খামার ও পুকুর পানিতে তলিয়ে ২০৮ মেট্রিক টন মাছ ও ৪২ লাখ পোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে টানা দুই সপ্তাহের বন্যায় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তার অববাহিকার ৯ উপজেলার ৫৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়।
দ্বিতীয় দফার বন্যায় এসব উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল তলিয়ে কৃষকের ১০৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঠের পাড় এলাকার পাপ্পু মিয়াজি বলেন, “দুই মাস আগে পুকুরে কিছু পোনা ছেড়েছিলাম। কিন্তু বানের পানিতে সব বেরিয়ে গেছে।
“নেট জাল দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারি নাই। আমাদের এলাকার আরও অনেকের পুকুর তলিয়ে মাছ বেরিয়ে গেছে।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোক্তাদির খান বলেন, “বন্যায় ৯ উপজেলার ৩ হাজার ৮৭ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তিন হাজারেরও বেশি মাছ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খামারির প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছি। সরকার থেকে কোনো সহায়তা পেলে তাদের দেওয়া হবে।”

এদিকে সোমবার থেকে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি ছয়টি পয়েন্টে হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে বলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন।
আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত নদ-নদীর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে। তবে ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”