Published : 31 May 2025, 04:20 PM
যশোরে একজন এইডস রোগী সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছেন। রোববার তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কোভিডের সময় এই হাসপাতালেই আরেকজন এইডস রোগী প্রথমবার সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর পর একই রোগে আক্রান্ত আরেকজন নারী সন্তান জন্মদানের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত এইডস রোগীদের সরকারিভাবে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা প্রদানের জন্য একটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে।
সেখানেই হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (আরএস) নিলুফার ইয়াসমিনের নেতৃত্বে সেই অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোভিডের সময়ও এইডস রোগীর সন্তানের জন্ম তার হাতেই হয়েছিল। রোববার সেখানে দ্বিতীয়বারের মত এইডস রোগীর অস্ত্রোপচার হবে।
নিলুফার ইয়াসমিন রোগী ও তার স্বজনদের অভয় দিয়ে বলেছেন, “চিকিৎসকদের পেশা হল মানুষের সেবা করা। আমরা আশা করি, মহান আল্লাহতালা সহায় থাকলে কোনো বিপদ হবে না এবং ১ জুনের সিজারটিও সঠিক সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন হবে।”
যশোরে বেশ কিছু দিন ধরেই এইচআইভি আক্রান্ত রোগী পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এই মরণব্যাধি ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। চলতি বছরেই সেখানে নতুন করে সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হুসাইন শাফায়াত জানান।
তিনি বলেন, “চলতি বছরের এই কয়মাসে সাতজনের শরীরে এইচআইভিস ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এইডস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোর একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও গভীরভাবে চিন্তিত।”
হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ধরনের রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ব্যবস্থা ও সতর্কতা রাখতে হয়। বিশেষত সংক্রমণের ভয়ে।
যশোরের এই হাসপাতালে লেবার ওয়ার্ডের অধীনে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ সন্তানসম্ভবা নারীর অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে। আরও অন্যান্য বিভাগের অস্ত্রোপচারও হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন সেখানে ছোটবড় ৩০টি মত অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে। এইডস রোগীর অস্ত্রোপচারের পর সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্য রোগীদের অস্ত্রোপচার করা যায় না।
ফলে একটি অস্ত্রোপচারের জন্য অন্য রোগীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন- এমন শঙ্কাও ছিল। এসব জটিলতার বিষয় মাথায় রেখেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এইডস রোগীর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে এর আগে ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও পরামর্শ করেন বলে জানা গেছে।
সংক্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (আরএস) নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, “কোনো ভাইরাসই ২৪ ঘণ্টার বেশি সক্রিয় থাকে না। অপারেশন থিয়েটার সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করলে এবং প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের সিজারে ভয়ের কিছু নেই।”
তিনি আরও জানান, কোভিডের সময় যে এইডস রোগী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রথমবার সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সেই নারী দ্বিতীয়বার সন্তান ধারণ করেছেন। তিনিও অস্ত্রোপচারের জন্য আবারও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিন মাস আগে ওই নারীর এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়েন। তখন তিনি প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তারপর থেকেই তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববারের অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। সাধারণত এ ধরনের বিশেষায়িত সিজার পরিচালনার জন্য পৃথক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল বা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অপারেশনকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ১৩টি হাসপাতালে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে। এর মধ্যে যশোর একটি। যশোরে এইচআইভি পজিটিভ শতাধিক মানুষ রয়েছে।