Published : 19 Jul 2026, 04:46 PM
রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিতে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ঢাকার দুই মেয়র, রাজউক চেয়ারম্যানসহ ৯ জনকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
‘মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’র (মওসুস) পক্ষে রোববার ডাকযোগে নোটিসটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ড্যাপ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিসে বলা হয়েছে।
আরও যাদের এই নোটিসে পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন—গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, মহাসড়ক বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব।
নোটিসে বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাধার ও খাল ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১৬ বছরে সরকার খাল উদ্ধার, ড্রেন সংস্কার ও পাম্পিং স্টেশনের পেছনে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেছে এবং ড্রেনেজের দায়িত্ব ওয়াসা থেকে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও জলাবদ্ধতা সংকট কাটেনি।
নোটিসে যানজট, দূষণ, জীবনযাত্রার ব্যয়, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ঢাকাকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ শহর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর জন্য রাজনৈতিক কারণ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা রাজউকের দুর্নীতিকে দায়ী করে বলা হয়েছে, রাজউক ঢাকাকে একটি ‘কংক্রিটের ভাগাড়ে’ পরিণত করেছে। টাকা ছাড়া রাজউকে কোনো কাজ হয় না বলেও নোটিসে বলা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ অগাস্ট নতুন ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিছু জায়গায় ছাড় দিয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ড্যাপ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তাতে সরকারি-বেসরকারি আবাসন, অপরিকল্পিত এলাকা, ব্লক-ভিত্তিক আবাসন, একত্রীভূত প্লটে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সুবিধা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোরও সুযোগও বাড়ে। ভবন নির্মাণে সামনের সড়কের প্রশস্ততার ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়।
সম্প্রতি এ পরিকল্পনাও সংশোধনের দাবি তুলেছেন আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা।
আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, ধানমন্ডি ও গুলশানের মতো পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় বেশি ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ (এফএআর) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে বেশি মানুষের বসবাস থাকা এলাকাগুলোতে এফএআর কম দেওয়া হয়েছে, যা অনেকের মতেই একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।
নগর পরিকল্পনাবিদ, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার এবং সাধারণ জমির মালিকদের মধ্যকার স্বার্থের সংঘাত, রাজউকের সক্ষমতার অভাব, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অংশীজনদের চাপে বারবার ড্যাপের নীতি পরিবর্তন করার কারণেই মূলত এর বাস্তবায়ন থমকে আছে বলে নোটিসে বলা হয়েছে।
আইনজীবী গোলাম রহমান ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ড্যাপ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে ঢাকা শহরে বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটে পানি জমে যায়। অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন হচ্ছে, বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে না এবং ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক নেই। ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে এগুলো থাকবে না।”
গেজেট প্রকাশের পরও দীর্ঘদিন ধরে এটি বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তারা মিটিং করে বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে, তবে তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। আমরা ১৫ দিনের সময় দিয়ে রাজউককে বলেছি, আপনারা অনুগ্রহপূর্বক জনগণ ও দেশের স্বার্থে ড্যাপ বাস্তবায়ন করুন।”