০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কর্মী সরবরাহে জালিয়াতি: মালয়েশিয়ায় ২ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

আটকদের কাছ থেকে ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Oct 2026, 05:52 PM

Updated : 09 Oct 2026, 05:52 PM

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের আমপাং জেলার তামান দাতুক আহমদ রাজালিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিদেশি কর্মী সরবরাহে জালিয়াতিতে যুক্ত সন্দেহে ২ বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবানের বরাত দিয়ে শুক্রবার মালয়মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুত্রাজায়া অভিবাসন সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের কৌশলগত সম্মতি শাখা এবং গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ পরিচালনায় এ দিন সকাল সাড়ে ৭টায় (স্থানীয় সময়) এই অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জাকারিয়া শাবান বলেন, “আটককৃতদের মধ্যে জালিয়াতিতে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক বলে ধারণা করা দুই বাংলাদেশি পুরুষ, ৬ স্থানীয় নারী কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ১২ জন গ্রাহককেও আটক করা হয়; যাদের মধ্যে ৯ বাংলাদেশি পুরুষ ও ৩ ইন্দোনেশীয় নারী।

“অভিযানকারী দল ওই স্থান থেকে ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৬৩টি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট, ১২টি পাকিস্তানি পাসপোর্ট এবং একটি ভারতীয় পাসপোর্টসহ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া ৬ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত জব্দ করেছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জাকারিয়া শাবান বলছেন, চক্রটি কথিত ‘এ-টু-বি’ নিয়োগকর্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করত। এই পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠান (নিয়োগকর্তা এ) বিদেশি কর্মী কোটার অনুমোদন নিয়ে সাময়িক কর্মসংস্থান পরিদর্শন পাস বা পিএলকেএস এর অধীনে কর্মী আনত। কিন্তু মূল নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ না করিয়ে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে সেই কর্মীদের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করত।

কর্মী কোটার অনুমোদন পেতে চক্রটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভুয়া নথিপত্র জমা দিত বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে যে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মালয়েশিয়া আনা বিদেশি কর্মীরা কোটার আবেদন করা মূল কোম্পানিতে কাজ না করে অন্য কোম্পানিতে কাজ করছিলেন।

জাকারিয়া শাবান বলেন, “এই অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি কর্মীর বিপরীতে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত মুনাফা অর্জন করা হত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কর ফাঁকি দিতে জড়িত কোম্পানিগুলো তাদের প্রকৃত আর্থিক রেকর্ডের চেয়ে অনেক কম মুনাফা ঘোষণা করেছিল। ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষের ব্যক্তিগত আয় রিপোর্ট দিতেও ব্যর্থ হয়েছিল তারা।”

তিনি বলছেন, মূল ব্যবসায়ের মালিক, ব্যবস্থাপক এবং একজন স্থানীয় কর্মচারীকে 'ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩'-এর ধারা ৫৬(১)(এল) এবং 'পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬'-এর ধারা ১২(১)(এফ)-এর অধীনে অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১২ জন বিদেশি গ্রাহককেও অভিবাসন আইন ও অনুচ্ছেদের অধীনে আটক করা হয়েছে।