বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে ইয়াবাসহ আটক ৪
“কক্ষের ভেতরে তীব্র দুর্গন্ধ ছিল এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।”
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয় বলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব জানিয়েছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন এবং বহিরাগত সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ।
অভিযানের সময় ওই কক্ষ থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ‘ফ্লাশ করে নষ্ট করার’ চেষ্টা করেন বলে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন।
কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক অনিরুদ্ধ সরকার বলেন, “অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার পর গেস্ট হাউসের কর্মীদের ফোন পাই। তারা জানান, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কর্মী মিথুনের নামে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। ওই কক্ষে কিছু অপরিচিত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, গেস্ট হাউসে অন্য অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। তাই যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কর্মীদের একা বিষয়টি মোকাবিলা না করার পরামর্শ দেন তিনি। পরে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেন। সহকারী প্রক্টর প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ দ্রুত ওই কক্ষে যান।
“কক্ষটি খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিং করা কর্মী, একজন এসি মেকানিক এবং দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতরে তীব্র দুর্গন্ধ ছিল এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি করে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট আলামত হিসেবে জব্দ করে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম বলছেন, “রাত পৌনে ৮টার দিকে গেস্ট হাউসের একটি কক্ষে বহিরাগতদের অবস্থানের খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দরজা খুলে কক্ষে প্রবেশের পর ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ইয়াবা উদ্ধার করে চারজনকে আটক করে।”
আটক চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে এসআই মাহবুব জানিয়েছেন।
