৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

কুয়েতে ষাটোর্ধ্ব প্রবাসীদের জন্য আসছে সুখবর

দেশটিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ষাটোর্ধ্ব বাংলাদেশি রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

কুয়েতে ষাটোর্ধ্ব প্রবাসীদের জন্য আসছে সুখবর
কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ, ছবি: আরব টাইমস

বিডিনিউজ২৪

আ হ জুবেদ, কুয়েত থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2024, 12:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:59 AM

কুয়েতে ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা তার কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের শ্রমনীতি পরিবর্তনের কথা ভাবছে দেশটির সরকার।

সম্ভাব্য এ নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনার মধ্যে রোববার দেশটির গণমাধ্যম আরব টাইমস ও আল-সেয়াসাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশা দেখছেন প্রবাসীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের শুরুতে জারি করা একটি শ্রমআইনে দেশটির জনশক্তি কর্মসংস্থান বিভাগ ষাটোর্ধ্ব বয়সী বিদেশি নাগরিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়া কাজের অনুমতি না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বিকল্প হিসেবে সেসব প্রবাসীদের জন্য সুযোগ রাখা হয় স্বাস্থ্যবীমা বাবদ ৫০০ কুয়েতি দিনার ও সরকারি ফি ২৫০ কুয়েতি দিনার পরিশোধ করে আকামা নবায়ন করার।

শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে মেধাভিত্তিক নতুন এই রেসিডেন্সি আইনের ফলে দেশে দক্ষ শ্রমিকদের দেশত্যাগ এবং শ্রমবাজারে সংকট দেখা দেয়। এর মাঝে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ষাটোর্ধ্ব বয়সী প্রবাসীদের আকামা ইস্যু পর্যালোচনা করার কথা জানায় কুয়েত সরকার।

এবার পর্যালোচনা শেষে প্রবাসীদের জন্য সুখবর জানালেন কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ। আইনটির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এখন থেকে ষাটোর্ধ্ব বয়সী প্রবাসীদের আকামা নবায়নের জন্য আগের মতো শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ কিংবা বাড়তি অর্থ খরচ ৭৫০ কুয়েতি দিনার দিতে হবে না।”

“এমন প্রবাসী আছেন যারা কুয়েতে জন্ম নিয়েছেন বা এখানেই তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই দেশের সেবা করেছেন। আমাদের উচিত তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।”

রোববার কুয়েতের হাওয়াল্লি এলাকায় ট্র্যাফিক নিরাপত্তা অভিযানের তদারকি করতে এসে শেখ ফাহাদ আরও বলেন, “প্রবাসীদের সম্মান করার অর্থ হলো, তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। তাদের কুয়েতে থাকার অনুমতি দেওয়া অপরিহার্য, কারণ কুয়েতকে তারা তাদের দ্বিতীয় বাড়ি বলে মনে করেন।”

প্রবাসীদের আর্থিক ও আইনগত অধিকার রক্ষার জন্য কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদের নির্দেশনার ওপর জোর দেন একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শেখ ফাহাদ। কিছু কোম্পানিতে প্রবাসী শ্রমিকদের মজুরি আটকে রাখার ঘটনায় সতর্ক করে তিনি বলেন, “যে কোনো কোম্পানি প্রবাসী কর্মীদের বেতন দিতে ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।”

কুয়েতে ৯ লাখ ৭ হাজার ৬১২ জন প্রবাসীর বয়স ৬০ বছর বা ষাটোর্ধ্ব বলে চার বছর আগে জানায় দেশটির শ্রম বিভাগ। এর মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।