সহনশীলতার প্রশ্নে লালন এখনও প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন
থিম্পুতে লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
সহনশীলতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবনে ফকির লালন শাহের দর্শন বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন।
শনিবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দূতাবাসের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলার এই মরমি সাধকের জীবন, দর্শন ও সংগীতের মাধ্যমে সাম্য, মানবতা ও সর্বজনীন সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়।
রাষ্ট্রদূত লালন শাহকে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “লালন শাহের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চিরন্তন আদর্শ তুলে ধরে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্য অতিক্রম করে তার এই দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।”
আধুনিক সমাজ ও নতুন প্রজন্মের করণীয় সম্পর্কে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত বলেন, “সহনশীলতার বিষয়ে লালনের দর্শন বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে লালনের সৃষ্টি দেশের অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়কে তুলে ধরে।”
একইসঙ্গে তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে লালনের এই মানবিক দর্শন ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ফকির লালন শাহের জীবন, দর্শন ও সংগীতজীবনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে লালনের জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন ভুটানের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস’ (রাপা)-এর শিল্পীরা এবং ভুটানে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসী চিকিৎসক নাদিয়া নাসরিন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কোরের সদস্য এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা।
