Published : 02 Jan 2023, 05:52 PM
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের একটি ভিডিও বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা; নুর কেন দুবাইয়ে, সেই প্রশ্নও তারা তুলেছেন।
ডিসেম্বরের শেষভাগে কাতারে যান নুর। সেখান থেকে দুবাইয়ে গিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্প্রতি তিনি দুবাই থেকে সৌদি আরবে গেছেন ওমরাহ করতে।
এই সফরের মধ্যেই গত ২৯ ডিসেম্বর দুবাই থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি বিভিন্ন বক্তব্য দেন, সেখানে তহবিল সংগ্রহের প্রসঙ্গও আসে।
সেই ভিডিওতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরকে বলতে শোনা যায়, “আরে ভাই... এই দেশে এসেছি, ফান্ড অবশ্যই সংগ্রহ করব। লুকোচুরির কিছু নাই। স্পষ্ট বলছি, ফান্ড কালেক্ট করছি। কাকে হিসেব দেব না দেব, এটা আমাদের বিষয়।”
১৮ মিনিটের ওই লাইভে নুর সরকারের এমপি, মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা দুবাইয়ে ‘কালো টাকায় সেকেন্ড হোম’ তৈরি করেছে।
একজন মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে নুর বলেন, তার ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা’ সেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ‘ভিডিও ও ডকুমেন্ট’ আছে দাবি করে সেসব প্রকাশ করার কথাও বলেন ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে এসে নতুন দল গড়া নুর।
ভিডিওতে তিনি বলেন, “২০ জনের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। হাজার হাজার কোটি টাকা এখানে পাচার করেছেন।… তাদের বিষয়ে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। ইতোমধ্যে তাদের ভিত নড়ে গেছে। গণআন্দোলন শুরু হলে তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে।”
নুরের ওই ভিডিও ছড়ানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিবাদ করছেন আওয়ামী লীগের অনেকে। ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে নুরের বিচারও দাবি করেছেন অনেকে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সদস্য মো. রাসেদুল ইসলাম রাসেল ফেইসবুকে লিখেছেন, “দুবাইয়ে কোনো মানুষ বেড়াতে গিয়ে জায়গা-জমি কিনতে পারে না। যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নুর মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন তিনি গত ১০ বছরে দুবাইয়ে অবস্থান করেননি। একবার মাত্র ৮ ঘণ্টা ট্রানজিট নিতে গিয়ে দুবাই এয়ারপোর্টে ছিলেন। অথচ নুর মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন, গুজব ছড়াচ্ছেন।”
নুরকে ভিডিওতে পুলিশের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, “পুলিশকে বলব, জনতাকে অত্যাচার করছেন– আপনাদের পরিণতি ভালো হবে না। এখন কোথায় বেনজীর (সাবেক আইজিপি), আজিজ সাহেব কোথায়?”
“সরকার সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণ করে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। বাংলাদেশে জালিমদের জুলুম চলছে। এখানে দ্বীন, ধর্মকর্ম করে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে গেছে।”
নুরুর এমন বক্তব্য নিয়ে ফেসবুকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিআরআইয়ের সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ।
তিনি লিখেছেন, “গত কিছুদিন যাবৎ নুরু কাতার ঘুরলো, এরপর দুবাই। হঠাৎ করেই কাতার বা দুবাই কেন? কারণ ফাঁস হয়েছে একটু আগে। এক ভাই ছবি পাঠিয়েছেন দুবাই থেকে, যা খুব সম্ভবত আজকে বা কালকে তোলা।
“বিএনপি নেতা আসলামের কথা মনে আছে, যে কিনা ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি সাফাদির সাথে ভারতে দেখা করেছিল এবং মোসাদ নাকি বিএনপিকে এদেশে ক্ষমতায় বসাবে!! তারপর অনেক ইতিহাস।”
তন্ময় লিখেছেন , “এখন আসি নুরু কেন খুব লাফাচ্ছে অনলাইনে লাইভে ও বক্তব্যে, কেনইবা সে গণমিছিলের প্রোগ্রাম দিয়েও দেশে নাই? কারণ সিম্পল, ইসরায়েলের মেন্দি এন সাফাদি তাকে ক্ষমতায় বসায় দেবে। সামনে নেতানিয়াহুর সাথেও মিটিং ফিক্স হবে- এমনটাই বলেছে তার লোকজন।
“দেশে আলেম ওলামার জন্য কান্নাকাটি করে ক্ষমতায় আসতে ইসরায়েলের কাছে শরণাপন্ন হওয়া ব্যক্তি কোন লেভেলের টাউট তা নিজেরাই বিচার করে নিন। চরম সাম্প্রদায়িক বক্তৃতা দেয়া নুর স্রেফ পাবলিসিটির জন্য ইসলাম ইসলাম করে আসল বাস্তবতা সে ক্ষমতাসীন হতে চায়।”
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেইসবুক মেসেঞ্জারে নুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছুদিন আগে আমাদের গণঅধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক শহীদুল ফাহিমকে ফোন দেন নিঝুম মজুমদার নামে একজন ব্যারিস্টার। ফোন দিয়ে তিনি সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ সম্পর্কে জানতে চান। উনি যে উত্তরগুলো দিয়েছেন , সেগুলো রেকর্ড করে তিনি (নিঝুম মজুমদার) অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি গণঅধিকার পরিষদের ফান্ডিংকে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন। সেই বিষয়টাই নুরুল হক নুর ভাই স্পষ্ট করেছেন।
“আমাদের সংগঠন তো পাবলিক ফান্ডে চলে। একজন দলীয় নেতা বিভিন্ন দেশে যাবেন, সেখানে তার শুভাকাঙ্ক্ষিরা দেখা করবেন– এটা স্বাভাবিক। একটি সংগঠন পরিচালনার জন্য অবশ্যই ফান্ডের প্রয়োজন আছে। সেক্ষেত্রে কেউ চাইলে আমাদরে ফান্ডিং করতেই পারে। আমরা বিভিন্ন সময় গণফান্ডিং করে থাকি এবং সেটার স্বচ্ছ হিসাবও আমাদের কাছে রয়েছে। এগুলো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির জন্য যারা যা করেছেন, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”