এবার বিএনপির আমীর খসরু আটক

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের মামলার আসামি তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Nov 2023, 07:34 PM
Updated : 2 Nov 2023, 07:34 PM

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অন্য বেশ কয়েকজন নেতার পর এবার স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে রাজধানীর গুলশানের ৮১ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই বিএনপি নেতাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো না হলেও আমীর খসরু গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় দলের মহাসমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একাধিক মামলার আসামি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম বলেন, ‘‘রাত সাড়ে ১১টা থেকে থেকে বাসাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলে। পরে তাকে (আমীর খসরু) গোয়েন্দা দপ্তরে নিয়ে যায়।”

আমীর খসরু বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে দলের অবস্থান তুলে ধরে আসছিলেন গত কয়েক মাস ধরে।

মহাসমাবেশ ঘিরে গত ২৮ অক্টোবরের সেই সংঘর্ষের পর এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির দুইজন সদস্য গ্রেপ্তার হলেন।

স্থায়ী কমিটির গ্রেপ্তার হওয়া অন্য নেতা হলেন মির্জা আব্বাস, যাকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার শহীদবাগ থেকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জহির উদ্দিন স্বপন ও ঢাকা মহানগর কমিটির উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হককে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে বিএনপির সেই সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল নয়াপল্টনে। সেদিন থেকে আন্দোলনের ‘মহাযাত্রা’ শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন আগের রাতেই।

তবে সমাবেশের দিন নয়াপল্টনের অদূরে কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় নেতাকর্মীদের।

সেদিন পুলিশের এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হামলা হয় প্রধান বিচারপতির বাসভবন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালেও। ব্যাপকভাবে পেটানো হয় সাংবাদিকদের। আগুন দেওয়া হয় অনেক গাড়িতে, চলে ভাঙচুর।

সেদিন যুবদলের এক নেতার মৃত্যুর তথ্যও জানিয়েছে বিএনপি।

সেদিন সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে একপর্যায় নয়াপল্টনের কাছে চলে এলে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। মঞ্চ থেকে নেমে হ্যান্ডমাইকে পরদিন হরতালের ডাক দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল এলাকা ত্যাগ করেন । সেই কর্মসূচি শেষে একদিন বিরতি দিয়ে ঘোষণা করা হয় তিন দিনের অবরোধ।

এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আবারও রোববার থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডেকেছে বিএনপি।

সংঘর্ষের পর নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু ছাড়াও, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, শামসুজ্জামান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অনেককে আসামি করা হয়।

সেদিনের পর থেকেই বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে আসছেন না। বিএনপির হয়ে অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় কর্মসূচি ঘোষণা করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল রিজভী।

বিএনপির অভিযোগ, সেদিনের সেই ঘটনার পর সারা দেশে আড়াই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।