সাইফুল হক বলেন, ‘‘মানুষ রাজপথে দাঁড়াবে, জেগে উঠবে, প্রতিবাদ করবে। প্রতিরোধের টেউ প্রতিদিন এখন শক্তিশালী হবে, গণজাগরণে গণঅভ্যূত্থানের একটি রাস্তা তৈরি করবে।”
Published : 29 Nov 2023, 03:54 PM
বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মুখে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করার যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশে তাকে ‘নির্বাচনি তামাশা’ বলা হয়েছে।
সরকারকে ‘নির্বাচনি খেলা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে ৭ জানুয়ারির ভোট প্রতিরোধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে কয়েকটি ছোট দলকে নিয়ে গঠন করা এই মোর্চার পক্ষ থেকে।
বুধবার দুপুরে পল্টনে মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মঞ্চের নেতারা এসব কথা বলেন, যারা বিএনপির সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের তারিখ দিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল বাতিল, ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অষ্টম দফার অবরোধ পালনে বেলা সাড়ে ১১টায় বিজয় নগর-তোপখানা সড়কে মিছিল শেষে এই সমাবেশ হয়্।
এতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘‘সরকারকে বলছি, এখনো সময় আছে, এই ‘নির্বাচনি খেলা’ বন্ধ করুন। জনগণ জেগে উঠেছে, আপনারা ৭ তারিখ (৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন) পর্যন্ত যেতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।
‘‘মানুষ রাজপথে দাঁড়াবে, জেগে উঠবে, প্রতিবাদ করবে। প্রতিরোধের ঢেউ প্রতিদিন এখন শক্তিশালী হবে, গণজাগরণে গণঅভ্যূত্থানের একটি রাস্তা তৈরি করবে। গণতন্ত্র মঞ্চ রাজপথে আছে, রাজপথে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সেই লড়াইটা আমরা চালিয়ে যাব।”
একতরফা ভোটের দায় না নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। বলেন, “জনগণ যেখানে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, সকল বিরোধী দল যেখানে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, এক রকম ‘ভোট ভোট খেলা’, এমন ‘মিথ্যা মিথ্যা নির্বাচনের দায় কেন নেবেন? এ রকম জালিয়াতি আশ্রয় কেন নেবেন?”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ ‘ডামি প্রার্থী’ বানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তামাশারও শেষ আছে।
“বাংলাদেশে আজকে মনে হয় তামাশার কোনো শেষ নাই। আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশে তামাশার দিক থেকে সবচেয়ে বলীয়ান হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
নির্বাচনের খরচের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘’১৬ শ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশের বর্তমান-ভবিষ্যতকে হুমকির মধ্যে ফেলে এই যে তামাশা করা হচ্ছে এটা কেবল প্রত্যাখান নয়, এই রকম নির্বাচনে কোনো ভোট না দিয়ে একে প্রতিরোধ করে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হবে। এই ভোটকে আমরা প্রতিরোধ করব।”
সাকির সভাপতিত্বে সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহীদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী অধিকার পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, হাবিবুর রহমান রিজু, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন্, সিরাজ মিয়া, নাগরিক ঐক্যের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ইমরান নূরও উপস্থিত ছিলেন।
অবরোধের সমর্থনে গণফোরাম-পিপলস পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, জাতীয়তাবাদী সমমনা দল, ১২ দলীয় জোট, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদও বিজয় নগর, তোপখানা রোড ও নয়া পল্টনের সড়কে মিছিল করে।
তবে বিএনপির পক্ষে কোনো জমায়েত চোখে পড়েনি দিনভর।