নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরদিন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব।
Published : 08 Feb 2023, 07:25 PM
তিন বছর আগে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বিচার শুরুর আদেশ হয়েছে।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর হত্যাচেষ্টার মামলাটিতে ইরফানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
এদিন ইরফান আদালতে ছিলেন না। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার হাজিরার জন্য সময় চেয়েছিলেন তার আইনজীবী।
বিচারক সেই আবেদনে সাড়া না দিয়ে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
ইরফানের আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইরফানকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ মার্চ দিনও ঠিক করে দিয়েছেন।
“সুস্থ হলেই আমার মোয়াক্কেল আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন,” বলেন ইরফানের আইনজীবী।
মামলাটিতে আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে, তারা হলেন ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লা, গাড়িচালক মিজানুর রহমান, মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দীপু এবং ইরফানের সহযোগী কাজী রিপন।
পুরানো খবর:
বাড়িতে অভিযান, ইরফান সেলিম র্যাব ‘হেফাজতে’পুরানো খবর:
কারাগার থেকে ছাড়া পেলেন ইরফান সেলিমপুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন।
দুর্নীতির দায়ে সাজা পাওয়া পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম ১০ মাস পর জামিনে মুক্তি পেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নেতাকর্মীরা। তখন পাশে ছিলেন ইরফান সেলিম।
তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খান।
তিনি ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। কলাবাগানে তার বাইককে ধাক্কা দেয় ইরফানের গাড়ি।
তখন তিনি বাইক থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ালে ইরফানের সঙ্গে থাকা অন্যরা নেমে এসে তাকে মারধর এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পরদিন ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম, জাহিদুল মোল্লা, সিদ্দিক দীপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ।
এই ঘটনার পর ইরফানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের মামলাও করা হয়। তবে পরে সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি। জামিনে মুক্তিলাভও হয় তার।
এদিকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তার করা মামলায় ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরফান সেলিমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের এসআই মমিনুল হক।
তার দুই বছর পর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ হল।
এদিকে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হাজি সেলিম ১০ মাস পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।