Published : 17 Feb 2026, 12:27 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট।
সোমবার এক বিবৃতিতে এ শপথের ‘সাংবিধানিক ও আইনগত বৈধতা ভেবে দেখার’ আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা এতে উদ্বিগ্ন বোধ করছি। একটি অসাংবিধানিক আদেশের বলে অনুষ্ঠিত গণভোটে এ ধরনের শপথ, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া- ইত্যাদি জায়েজ করার বিরুদ্ধে আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।
“আগামী সংসদে রাষ্ট্রপতির আদেশ গৃহীত হবার আগে এ ধরনের অতিরিক্ত শপথ বৈধ হবে না বলে অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞের মত। আমরা জাতীয় সংসদের সকল নির্বাচিত সদস্যদেরকে অতিরিক্ত কোনো শপথ গ্রহণ না করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও হয়। তাতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর।
এই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরাই। সে কারণে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গলবার তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদাভাবে শপথ নিতে হবে।
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা শুনেছি যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একইসঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে। আমরা এ বিষয়টির সাংবিধানিক ও আইনগত বৈধতা ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
“কারণ সাংবিধানিক ও আইনগত দিকগুলো চিন্তা না করে যেকোনো পদক্ষেপ ভবিষ্যতের সংস্কার কাজকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে, যা আমরা কেউই চাই না। আমরা দীর্ঘসময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে এ সকল সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা চাই না এই জটিলতায় সংস্কার প্রক্রিয়াটি ঝুলে যাক। সংসদ গঠনের পর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরও অধিকতর পরামর্শ অনুসারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যেহেতু আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে চাই, যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানকে আমরা ভিত্তি মনে করি এবং যেহেতু ৭২ এর সংবিধানের ১৪২ ধারায় রয়েছে সংবিধান সংস্কারের পথ; তাই সংস্কারের জন্য ভিন্ন কোনো শপথের প্রয়োজন নেই।
“সংবিধান সংস্কারের শপথ তখনই প্রয়োজন হয় যখন কোনো সংবিধান থাকে না বা নতুন সংবিধান প্রণয়নের দরকার হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে জুলাই শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কারে জাতীয় সংসদের সামনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির গণভোট আদেশ অনুমোদন হওয়া ব্যতিরেকে সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত আরেকটি শপথ না নেওয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছি।”
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট বলেছে, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় যে সমস্ত বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছিল, আগামী সংসদ দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো অনুমোদন করবে বলে আমরা আশা করছি। যেসব প্রশ্নে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, সেগুলো জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করাই যথাযথ হবে বলে মনে করি।”
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী এ বিবৃতি দেন।