Published : 06 Sep 2025, 04:02 PM
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের ‘ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই’ বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে দেখে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কালকে আমরা একটি সফল প্রোগ্রাম শেষ করেছি শাহবাগে, নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে। সংহতি সমাবেশের পর আমরা লক্ষ্য করলাম, আমরা কার্যালয়ে অনেকে ফিরে গিয়েছি। তারপর কে বা কারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গিয়েছে।
“এর প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব, আওয়ামী দোসর তিনি বলছেন যে, এই ঘটনার সাথে নাকি গণঅধিকার পরিষদ জড়িত। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, গণঅধিকার পরিষদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে।”
‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে শুক্রবার বিকালে শাহবাগ মোড়ে সংহতি সমাবেশ আয়োজন করেছিল গণঅধিকার পরিষদ। সেই সমাবেশ শেষ করে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যান দলটির নেতাকর্মীরা।
আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকা পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে ভাংচুর চালিয়ে তারা আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ঘটনায় রাতেই জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সংবাদ সম্মেলন করে গণঅধিকার পরিষদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান। এছাড়া আগুনে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বিএনপিও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
এর আগে গত ৩০ অগাস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক মশাল মিছিলের ডাক দেয় গণঅধিকার পরিষদ। রাত সাড়ে ৯টায় মশাল মিছিল কর্মসূচি শেষে বিজয়নগর এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে। তাতে আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
ওই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ওই ঘটনার নিন্দা জানায়।
পরদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখায় নুরের দলের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়।
হামলার ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আর আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা অগ্রাহ্য’ হওয়ার পর সেনাবাহিনী সেদিন ‘মব ভায়োলেন্স’ ঠেকানোর জন্য বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ও এ নিয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ বলেন, “আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছি প্রায় সাত-আট মাস আগে। একই সময়ে একই দাবিতে নির্বাচন কমিশনেও আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। এটা আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন। কিন্তু, বলা হচ্ছে, হঠাৎ করে আমরা নাকি এই আন্দোলন শুরু করেছি।”

জাতীয় পার্টির মহাসচিবের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে যে স্যাবোটেজ হয়েছে, এই ঘটনার সাথে গণঅধিকার পরিষদ জড়িত নয়। এমনকি, আমরা যারা সংহতি সমাবেশ করেছি, এই ঘটনার সাথে তাদের ন্যুনতম সম্পৃক্ততা নাই।”
তিনি বলেন, “শামীম হায়দার পাটোয়ারী ফ্যাসিবাদের দোসর, সে গণঅধিকার পরিষদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ দাবি করেছে। ওর এত বড়ো স্পর্ধা কীভাবে হয়? আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগকে সরকার এবং প্রশাসনের একটি অংশ ‘মদদ’ দিচ্ছে দাবি করে রাশেদ বলেন, “গতকাল আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ তেজগাঁওয়ে মিছিল করেছে। সরকার যদি, প্রশাসন যদি, আর্মি, র্যাব, বিজিবি, যৌথ বাহিনী এবং পুলিশ যদি এই আওয়ামী লীগকে প্রতিহত না করে, আমরা ধরে নিব, সরকারের একটি মহল, প্রশাসনের একটি মহল এই আওয়ামী লীগকে প্রটেকশন দিয়ে মাঠে নামাচ্ছে।”
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমাদের কাছে স্পষ্ট তথ্য রয়েছে, জাতীয় পার্টিকে আগামীতে বিরোধী দল বানাতে বাংলাদেশের একটি মহল এবং ভারতীয় এজেন্টরা তৎপর।
“স্পষ্ট ঘোষণা, বাংলাদেশে আগামীতে কে সরকারি দল হবে, কে বিরোধীদল হবে, এদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনের কেউ, গোয়েন্দা সংস্থার কেউ, সরকারের কেউ এমনকি ভারতের কেউ এ বিষয়ে ন্যুনতম নাক গলাতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “বাংলার মাটিতে জাতীয় পার্টি কোনো রাজনীতি করতে পারবে না এবং আগামীতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এটা আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য।”
নুরকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে সরকার গড়িমসি করছে অভিযোগ করে রাশেদ বলেন, “নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো নিয়ে গড়িমসি চলছে। যেহেতু ব্রেইনে আঘাত, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না হলে, নুরুল হক নুরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে।
“সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নুরুল হক নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো হবে। কিন্তু, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “নুরকে যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে না পাঠানো হয়, এজন্য একটি মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
“তারা চায় না, নুরুল হক নুর সুস্থ্য, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। নুরের অবস্থা এখনো পর্যন্ত আশঙ্কামুক্ত নয়। নুরকে দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপরে যারা আগ্রাসনবিরোধী নেতা, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতা, একে একে তাদেরকে এভাবে মেরে আইসিইউতে পাঠানো হবে।”
এদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদলও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরকে দেখতে যান এবং তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেওয়ায় বিএনপির নিন্দা