১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতে সম্রাট, সমর্থকদের হট্টগোল

আদালত সম্রাটকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে।

আদালতে সম্রাট, সমর্থকদের হট্টগোল

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সমর্থকরা।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2022, 04:20 PM

Updated : 22 Aug 2022, 05:58 PM

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার সমর্থক কমেনি; আর তাদের হৈ হট্টগোলে সোমবার ঢাকার আদালতে বিচারপ্রার্থীদের সমস্যা পোহাতে হয়েছে।

কারাবন্দি সম্রাটকে ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এদিন হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

সম্রাটকে আনার খবরে সকাল থেকেই তার সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন আদালত প্রাঙ্গণে।

বন্দি সম্রাট এখন বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন। সেখান থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সম্রাটকে আদালতে আনে কারা কর্তৃপক্ষ।

সম্রাট আদালত চত্বরে আসার পরপরই তার মুক্তি চেয়ে স্লোগান তোলেন জড়ো হয়ে থাকা সমর্থকরা। তাদের স্লোগান আর হাততালিতে সরগরম হয়ে ওঠে চারপাশ।

দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে সম্রাট হট্টগোল আর হুল্লোড় চলে আদালত প্রাঙ্গণে। এতে আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। সমস্যা তৈরি হয় অন্যান্য কাজেও। ঢাকার জেলা জজ আদালতের পুরানো ভবনের ফটক আর প্রাঙ্গণ, দুই তলার এজলাসের বারান্দায় অন্য বিচারপ্রার্থীদের তখন ঢুকতে কিংবা বের হতে বেগ পেতে হয়।

বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামনের আদালতে শুনানি ছিল সম্রাটের মামলার।

শুনানি শুরু হলে সম্রাটের পক্ষে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি। সে সময় দুদকের পক্ষে আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন দিন রাখেন।

Image

সম্রাটের সমর্থকদের ভিড়ে সোমবার আদালতে ঢুকতে কিংবা বের হতে অসুবিধায় পড়েন বিচারপ্রার্থীরা

সম্রাট জামিনের আবেদনও করেছিলেন। শুনানির পর আদালত আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্রাটকে জামিনের আদেশ দেন।

দুদকের কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, দুটি শর্তে জামিনের এই আদেশ হয়েছে। প্রথমটি হল তাকে আদালতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে, দ্বিতীয়টি হল বিদেশ যেতে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

এই আদেশের ফলে সম্রাটের কারামুক্তিতে আর বাধা নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

সারাদেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাট ও তার সহযোগী তৎকালীন যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওই বছরের ১২ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাতে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্রে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ১১ মের মধ্যে অস্ত্র, অর্থ পাচার, মাদক ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের চার মামলায় জামিন পান সম্রাট। ৩১ মাস পর মুক্তি মেলে তার।

তবে গত ১৮ মে হাই কোর্ট জামিন বাতিল করে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দিলে আবার তার বন্দিজীবন শুরু হয়।