Published : 03 Jan 2026, 07:40 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ৪৪ জনের মধ্যে ৩০ জনের মনোনয়ন মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এসব আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ১২ জনের।
একজন প্রার্থী মনোনয়নপ্র প্রত্যাহার করেছেন, আরেকজনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসার মো: রেজাউল করিম।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা জেলার ২০ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত পাঁচটি আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।
তিনি বলেন, “আমাদের পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়েছিল ৬৫টি। এরমধ্যে ৪৪টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে, যেগুলো আজকে আমরা যাচাই-বাছাই করেছি।
“সেখান থেকে ৩০টি মনোনয়ন বৈধ হিসেবে গ্রহণ করেছি; বাতিল হয়েছে মোট ১২টি। আর একটি মনোনয়নপত্র পেন্ডিং আছে, আরেকজন তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।”
যাচাই-বাছাইয়ে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনে সাতজনের মধ্যে দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিলা হয়েছে। তাদের একজন স্বতন্ত্র ও অন্যজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম।
এবার কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকার এসব ওয়ার্ড বাদ দিয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলার তাড়ানগর, কলাতিয়া, হজরতপুর, রুহিতপুর ও শাক্তা ইউনিয়ন এবং সাভার উপজেলার আমীনবাজার, তেতুলজোড়া ও ভাকুর্তা, ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-২ আসন।
এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা তিনজনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: আব্দুল হকের মনোনয়ন ঋণ খেলাপীর অভিযোগে বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
বিএনপির আমানউল্লাহ আমান মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-৩ আসনে মোট ১৬ জনের মধ্যে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও জামায়াতের মো: শাহিনুর ইসলামসহ আটজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঋণ খেলাপসহ ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গড়মিলের অভিযোগে বাকি আটজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিম।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া আটজনের মধ্যে জাতীয় পার্টির মো. ফারুখ ছাড়া বাকিরা স্বতন্ত্র নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া ও সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা; সাভার সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসনে মোট ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নয়জন দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো: কামরুলের মনোনয়ন স্থগিত রেখেছে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। দলীয় সভাপতির স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র নিয়ে এলে তিনিও বৈধতা পাবেন।
আর একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: হারুনূর রশীদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তার ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় ১০ জন ভোটারের সঠিকতা পাওয়া যায়নি পাশাপাশি হলফনামা দেওয়া হয়নি।
ধামরাই উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২০ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিম।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ১৩টি আসনের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অধীনে পাঁচটি আসন ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে দুটি আসন রয়েছে।
ঢাকা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ১৪০ জন, ঢাকা-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৫ জন, ঢাকা-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ জন, ঢাকা ১৯ আসনে ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন এবং ঢাকা-২০ আসনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জনে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রতি একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ টাকা গড়ে নির্বাচনি ব্যয় করতে পারবেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। পরদিন থেকে বাছাই শুরু হয়ে যা চলার কথা ৪ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
মনোনয়নপত্র বাতিল হলে নিয়ম অনুযায়ী আপিলের সুযোগ পাবেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
দলীয় প্রার্থী হতে দলীয় প্রত্যয়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নির্বাচনি এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন বা সাবেক সংসদ সদস্য হলে চলবে। সমর্থন তালিকা থেকে দ্বৈচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করে সঠিকতা যাচাই করে রিটার্নিং অফিসার সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।