Published : 29 Apr 2026, 12:41 AM
গণভোটের প্রশ্ন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের বক্তব্যের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, এ বিষয়ে ‘বিভ্রান্তির’ কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আখতার বলেন, “গণভোটের প্রশ্ন না পড়ে তারা ভোট দিয়েছেন যদি বলতে চান, সেটা তাদের দুর্বলতা, তাদের ব্যর্থতা, জনগণের উপরে নয়।”
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।
পরে গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদকে চারটি পয়েন্টে নামিয়ে আনার বিষয়টি ‘জাতীয় ঐকমত্য’ ছিল কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
তার ভাষায়, জাতীয় ঐকমত্য যখন রূপান্তরের ভিত্তি, তখন একতরফা কোনো অবস্থান গৃহীত হতে পারে না।
এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ এম মাহবুব উদ্দিন বলেন, গণভোটে প্রশ্নগুলো কী হবে, সে বিষয়ে সবাই একমত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
তিনি বলেন, “আমরা এগ্রিমেন্ট করছিলাম? না। ওখানে আপনাদের লোক যারা, তারা ফ্রড করেছে। চারটা ঢুকায় দিছে।”
মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিএনপির সমর্থক ভোটাররা যে দুটি প্রশ্ন পছন্দ করেছেন, সেগুলোতে ভোট দিয়েছেন; সবগুলো পছন্দ করেননি।
তার ভাষায়, “এখন আপনারা ৭০ পারসেন্ট এই চারটা কেউ ঢুকাল। এগ্রিমেন্ট আপনাদের লোক ছিল, সেখানে তারা ফ্রড করে এই চারটা ঢুকিয়ে দিয়েছে।”
তার এই বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্ন নিয়ে মাহবুব উদ্দিন প্রকারান্তরে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন।
“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন গণভোট আয়োজন করেন, তখন তার ১৯ দফা ছিল। আর বেগম খালেদা জিয়া সংবিধানের বিষয়ে গণভোট করলে সেখানে ১৬টি পয়েন্ট ছিল।
“সে সময়গুলোতে ১৯টা পয়েন্টে আর ১৬টা পয়েন্টে প্রশ্ন একটাই, কিন্তু পয়েন্ট তো এতগুলা, তখনও তো এই প্রশ্নটা আসতে পারত যে শহীদ জিয়াউর রহমানের সাতটা মানি, বাকি ১২টা মানি না; খালেদা জিয়ার এতটা মানি, এতটা মানি না।”
আখতার বলেন, অতীতে মোটের ওপর গণভোট হয়েছে; এবারও প্রশ্নগুলোর ভেতরে বিষয়ভিত্তিক ভাগ ছিল। উচ্চকক্ষ পিআরের ভিত্তিতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ বডির মাধ্যমে নিয়োগ হবে, এসব বিষয়ে ‘স্পষ্ট সিদ্ধান্ত’ ছিল।
তিনি বলেন, “জনগণ যা ডিসিশন দিয়েছে, সে অনুযায়ী সেগুলোকে হতে হবে।”
এনসিপির এই এমপি বলেন, ৩০টি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছিল। এর বাইরে কিছু বিষয়ে যে দল যেভাবে ম্যান্ডেট পাবে, সেভাবে করার সুযোগও গণভোটে রাখা ছিল।
“অতএব গণভোটের প্রশ্ন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই।”
আখতার হোসেনের বক্তব্যের পর সরকারপক্ষ থেকে আপত্তি ওঠে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “এটা পয়েন্ট হয় না এবং উনি বক্তব্য রেখেছেন, আবার উনারা যখন বক্তব্য রাখবেন তখন পাল্টা বক্তব্য রাখবেন। এটাই হল নিয়ম।”
এ সময় কয়েকজন সদস্য দাঁড়ালে ডেপুটি স্পিকার সবাইকে বসতে বলেন।
এরপর জোনায়েদ সাকিকে এক মিনিটে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “সত্যের খাতিরে এবং ইতিহাসের রেকর্ড হিসেবে” বিষয়টি বলা দরকার।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ তৈরির জন্য ঐকমত্য কমিশনের প্রথম কাজ ছিল জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা। নোট অব ডিসেন্টসহ ঐকমত্যের জায়গায় পৌঁছানোই ছিল সিদ্ধান্ত।
সাকি বলেন, “সেটা পৌঁছানো হয়েছে এবং সেটা স্বাক্ষর হয়েছে। প্রথম পর্ব শেষ হল।”
তিনি বলেন, দ্বিতীয় পর্বে জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্ন এসেছে। তার দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি তোলা হয়েছিল এবং তার যৌক্তিকতাও ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।
“এটা তো আমি দাবি করেছি, আমার দাবি মানেই তো এটা অন্যরা গ্রহণ না করলে এটা গৃহীত হয়ে যেতে পারে না।”
সাকি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ পুরোটা গণভোটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটিকে চারটি পয়েন্টে আনা হয়েছে।
“এটা ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য হয়েছিল কি না, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এটা জাতীয় ঐকমত্য হয় নাই।”
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সাকি বলেন, “জিয়াউর রহমান তার নিজের দাবি বা দফা হাজির করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংসদে পাস হওয়ার পর গণভোটে যায়। জুলাই জাতীয় সনদ ছিল জাতীয় ঐকমত্যের জায়গা। এটাতে কোনো একতরফা জিনিস আসতে পারে না।”
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে পার্থক্য আছে, এই পার্থক্য স্বীকার করেই সবাই আছে। আমরাও একটা জোটে আছি। আমাদের মধ্যে ঐক্য আছে পার্থক্য আছে বলেই। যখন কোনো পার্থক্য থাকে না, তখন ঐক্যের প্রসঙ্গই থাকে না।”
তার ভাষায়, গণতন্ত্র মানে এই নয় যে নিজের প্রস্তাব গৃহীত হলেই তা জাতীয় ঐকমত্য হয়ে যাবে।
“জাতীয় ঐকমত্য যখন ট্রানজিশনের ভিত্তি, তখন সেটা গৃহীত হতে পারে না। সেই নৈতিক রাজনৈতিক অবস্থানটি আমাদের গ্রহণ করা দরকার।”