Published : 10 Jan 2026, 08:45 PM
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ‘প্ল্যান’ নিয়ে দেশে ফিরেছেন, তা যেন বাস্তবায়ন হয়, সেই প্রত্যাশার কথা বলেছেন সম্পাদকরা।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে সম্পাদকরা তার কাছে গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট বন্ধ হওয়া, বাজারে দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, “১৭ বছর টানা বিদেশে থাকাটা খুব কঠিন বিষয়। যখন আপনি নিশ্চিত করে জানেন যে, চাইলেও আপনি এক দিন বা দুদিনের জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না। আমার কিছু দিন বিদেশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি জানতাম যে, আমি চাইলে দেশে যেতে পারব।”
প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন কাটিয়ে গেল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
তারেকের সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, “আপনি আসতে পেরেছেন; স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন; একটা পরিকল্পনার কথা বলেছেন। পরিকল্পনা আছে আপনার।
“আমি শুধু বলতে চাই যে, আপনার সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক, পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হোক। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই, অভিনন্দন জানাই, ভালো থাকুন।”

বিএনপি সরকার গঠন করলে সরকারপ্রধানের কাছে সংবাদমাধ্যমের কী কী প্রত্যাশা রয়েছে, সে বিষয়ে নিজেদের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন সম্পাদকরা।
‘তারেক রহমান কত জনপ্রিয়, উনি জানেন না’
সবাইকে ‘লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ জানিয়ে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, “আমার বয়স ৯১। বলতে পারেন আমি কিছু হাসিনা রোগে আক্রান্ত হয়েছি। এই কারণে বয়স ৯১ তো, অনেক কিছু, কথা মনে পড়ে যায়; অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত, আমি সেটা বলব না।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি শুধু জনাব তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে তিনি কী? সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন, নো দাই সেলফ। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে আমি বুঝতে পারি, এই ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম এই বাক্যটি- নো দাই সেলফ। এত বড় মূল্যবান কথা কী? জানা দরকার। জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই।
“প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান জানতেন না যে, তিনি কত পপুলার, তার জানাজায় অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল তখন। তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়া তিনি যখন মহাপ্রয়াণ করলেন, তখন সারা বাংলাদেশই হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা।”
শফিক রেহমান বলেন, “তারেক জানেন না, তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম, তখন বন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করত। সবচেয়ে বড় কথা, পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করত। আমি বলতাম উনি তো লন্ডনে বহু দূরে আছেন, আর আমি আপনাদের এখানে আছি। এতোটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে।”
তিনি বলেন, ‘‘এখন দেখছি তারেক রহমান সময় মেনে চলছেন। আমি লক্ষ্য করছি, তার ওপর কিছু বিলাতি প্রভাব পড়েছে। আমি বলব, তিনি একজন পরিবর্তিত মানুষ হয়ে গেছেন। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন এবং কারাগারে স্বজনদের সাক্ষাৎ বঞ্চিত করা ও সুচিকিৎসা না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিগত সরকারের নীতির সমালোচনা করেন শফিক রেহমান।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, ব্যাংক থেকে যেন অর্থ লুটপাট বন্ধ হয়, বাজারে দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে যেন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা হয়।
‘আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই’
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, “আপনি চেয়ারম্যান হলেন, আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনাদের শুভকামনা, সুস্বাস্থ্য কামনা এবং আপনার সর্বস্তরের সাফল্য কামনা করছি।”
সংবাদকর্মী হিসেবে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই এবং সুশাসন চাই।”

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জেগুলো কী? আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। এটা নিয়ে আমরা কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অত আলোচনা করছি না। ক্লাইমেট চেঞ্জের যে কী ইমপ্যাক্ট হবে, এটা ইতোমধ্যে আমরা কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলে দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং আমার অনুরোধ থাকবে, ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ইউর ভেরি ইম্পর্টেন্ট প্রায়রিটি’।
“আরেকটা হচ্ছে, আমাদের পানিসম্পদ। আমরা পৃথিবীর অন্যতম, মানে সম্পদশীল দেশ পানির ক্ষেত্রে, কিন্তু আমরা সমস্ত নদীকে দূষণ করছি…আপনাকে এ বিষয়টি দেখতে হবে।”
‘তারেক রহমান আমূল বদলে গেছেন’
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, “আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম ২৩ বছর আগে। আমি প্রথম ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। আমি এখন দেখি ২৩ বছরে তারেক রহমান বদলে গেছেন, আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে।”
সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই। মিডিয়া ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন, অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি, মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা অনেকটাই সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন কিন্তু আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে, আমরা জাহান্নামে আছি, না বেহেশতে আছি। কষ্ট হয় গণতন্ত্রের কথা বলি আমরা। কিন্তু আমরা এখানে ওই দলবাজির চিন্তা করি, দলের মধ্যে গিয়ে চিন্তা করি যে, এটা কি আমাদের কাগজ, নাকি আমাদের বিরোধী?
“আমার মনে হয়, তারেক রহমান সাহেব যে বদলে গেছেন বলছি এই কারণে, তিনি দেখে এসেছেন, পাশ্চাত্য দুনিয়ায় কীভাবে মিডিয়া চলে। তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন আছে।”
মানবজমিনের সম্পাদক বলেন, “আজকের বাংলাদেশ অস্তিত্ব সংকটে যেভাবে পড়ে যাচ্ছে, সেই সংকট থেকে, যে উগ্রবাদ আমাদেরকে গ্রাস করার চেষ্টা করছে, সেই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।”

‘সাংবাদিকতার পরিবেশ চাই’
নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘‘আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই, অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।
“কোনো রাজনৈতিক দল যদি বিশ্বাস করে, মানুষকে বলে যে, তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তর চায়, তাহলে একইসঙ্গে তার দায় দাঁড়ায়, সেই গণতান্ত্রিক রূপান্তরে সহযোগিতা করার জন্য গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।”
তিনি বলেন, “কী কী পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার আবহাওয়া নষ্ট হয়, সেগুলো আলোচনার জন্য তো সেমিনার করা যেতে পারে। শুধু এইটুকু শুভেচ্ছা জানিয়ে বলব যে, আপনারা যেন সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন।”
তিনি বলেন, “এই সময়ে যারা জেলের মধ্যে আছেন ভিন্ন মতের জন্য, তাদের যে আইনসঙ্গত অধিকার আছে, অভিযুক্ত হিসেবেই যে আইনসঙ্গত অধিকার আছে, সেইগুলো নিশ্চিত করবার জন্যে সংবাদপত্রের পক্ষ থেকে, আমাদের এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সময় সরকারকে বলেছি। সরকার বলেছে, তারা সেটা দেখবেন। কিন্তু তাদের আইনগত অধিকারগুলি নিশ্চিত করার কথা দিয়ে তারা রাখেননি।
“আমি আপনাকে (তারেক রহমান) এজন্য শুভেচ্ছা জানাবার চেষ্টা করব যে, আপনার যতটুকু প্রভাব এই মুহূর্তে আছে, সেই প্রভাব খাটিয়ে যদি বিগত সরকারের আমলের যে অন্যায়গুলো হয়েছে, সে অন্যায়ের রিপিটেশন যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি, তাহলে রাষ্ট্রের তরফ থেকে সংবাদপত্র এবং মিডিয়াকর্মীদের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণের উদাহরণ আমরা তৈরি করতে পারব না।”
‘আপনি জানেন না, এখানে কী হয়েছে’
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত সাংবাদিকদের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘আমাদের গাজী ভাই, মরহুম গাজী ভাই (রুহুল আমিন গাজী), ক্যান্সার আক্রান্ত গাজী ভাইকে ভুয়া মামলায় জেলখানায় রেখে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আমাদের ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মতো।
“দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আজ যারা এখানে বসে আছেন, তারা কেউ গাজী ভাইয়ের জন্য টু শব্দ উচ্চারণ করেন নাই। এটাই বাস্তবতা। আসাদ ভাই (আবুল আসাদ) আমাদের মধ্যে প্রবীণতম সম্পাদক, তাকে ছাত্রলীগের গুন্ডারা অফিসে ঢুকে দাড়ি ধরে নামিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে এবং বছরের পর বছর তিনি জেলে থেকেছেন, তিনিও অসুস্থ। তার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি তার স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেন নাই। কারণ জেল থেকে বেরনোর পরেও তাকে পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। আসাদ ভাইয়ের জন্যে কোনো সম্পাদক আওয়াজ তোলেন নাই। এটাই বাস্তবতা।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি জনাব তারেক রহমানকে একটা ছোট্ট পরামর্শ দিয়েই বক্তব্য শেষ করব। শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে, সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন- এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছিল। এজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।
“জনাব তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না, এখানে কী হয়েছে। আপনার বিশিষ্ট লোকজন আপনাকে যা বলেছে, এটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে, সেটাই আপনি শুনছেন এবং সেটাই আপনি মনে করছেন, এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। এটা না ১৭ বছরের ইতিহাস না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করবো, ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং সেই অনুষ্ঠানে আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেন।”

‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই’
কালের কণ্ঠর সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, “আমরা দেখেছি যে, গোয়েন্দা শাসিত মিডিয়া। সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। আমরা সত্যিকারের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই, যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমরা পেয়েছি।”
তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আসনে আসনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। কক্ষের একেবারে পেছনের সারিতে আলোকচিত্রীদের কাছে গিয়েও হাত মেলান তিনি।
এরপর তিনি মঞ্চে উঠার সময়ে দেখলেন লাল ফিতে দিয়ে একটা বেষ্টনী বসানো হয়েছে। তারেক রহমানের কথায় সেই বেষ্টনী সরিয়ে নেওয়া হয়।
সাংবাদিকরা কেউ কেউ তারেক রহমানকে মাননীয় বলে সম্বোধন করলে তিনি মাইক নিয়ে বলেন, ‘‘আমার নামের আগে মাননীয় বলবেন না।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, যুগাস্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, দেশ রূপান্তরের রেজাউল করিম লাভলু, নিউজ টোয়েন্টিফোরের মারুফা রহমান, ইউএনবির আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর, ইত্তেফাকের সাইদুর রহমান, নাগরিক টিভির এরফানুল হক নাহিদ বক্তব্য রাখেন।