Published : 05 Dec 2025, 07:36 PM
আওয়ামী লীগ আমলে খালেদা জিয়াকে যখন দুর্নীতি মামলায় দুই বছর কারাগারে রাখা হয়েছিল, তখন থেকেই তার ‘নানা রোগের সূচনা’ হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “একটা অপরাধমূলক অবহেলা। সুচিকিৎসার অভাবে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় শুক্রবার বাদ জুমা নয়া পল্টন জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার ঢাকায় এলে পরদিন তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে পাঠায় আদালত। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা তত্ত্বাবধানে তখনকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে রাখা হয়।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ অনেকটা আকস্মিকভাবেই আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয়। শর্ত অনুযায়ী তাকে থাকতে হয় গুলশানের বাসায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও তার ছিল না।
এর মধ্যে কয়েকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কয়েক দফা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারও হয়।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ওই বছর ৭ অগাস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। পরে উচ্চ আদালত তাকে দুই মামলা থেকেও খালাস দেয়।
চলতি বছর জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসেন খালেদা জিয়া। আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৩ নভেম্বর তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “নেত্রী সারাটা জীবন এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। আপনারা সবাই জানেন বিগত হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার তার প্রতি যে অন্যায় আচরণ করেছেন, নির্যাতন করেছেন, নিপীড়ন করেছেন। দীর্ঘ ৬ বছর তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
“এর মধ্যে দুই বছর তাকে নির্জন কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। সবাই সন্দেহ করে সেখান থেকে তার এই রোগের সূচনা হয়।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা জানেন যে, কোভিডের পর থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। এই কয়েক দিনের মধ্যে আবার তিনি অসুস্থ হয়েছেন।
“আমরা আজকে এই নয়া পল্টনের মসজিদে জুমার নামাজ পড়েছি। সারা দেশে জুমার নামাজের পরে বাংলাদেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে এই মহান নেত্রীর আরোগ্য লাভের জন্য, তিনি যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন এবং দেশের সংকট তার নেতৃত্বে আমরা অতিক্রম করতে পারি সেই দোয়া বাংলাদেশের মানুষ আল্লাহ তালার কাছে চেয়েছেন।”
দেশবাসীকে খালেদা জিয়ার জন্য ‘কায়মনো বাক্যে’ দোয়া করতে অনুরোধ করেন মির্জা ফখরুল।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন জানানো হয়, গত জানুয়ারির মত এবারও কাতারের আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে লন্ডনে পাঠানো হবে।
কথা ছিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এলে শুক্রবার সকালেই তিনি রওনা হবেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল পরে জানান, ‘কারিগরি জটিলতায়’ শুক্রবার অ্যাম্বুলেন্স আসছে না। সব ঠিক থাকলে এবং চিকিৎসকরা অনুমতি দিলে রোববার খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে।
দোয়া মাহফিলের ওপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি ফ্লাই করতে পারবেন কিনা সেটা ডাক্তাররা বা মেডিকেল বোর্ড নিশ্চিত করলেই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন নিতে হবে।
“চিকিৎসকরা প্রাণপণে চেষ্টা করছেন এবং আশা করছেন যে, তিনি আগামীকাল যদি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়, তাহলে আগামী পরশু অর্থাৎ রোববার তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”