২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকির মাত্রা ‘গুরুতর’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে পেন্টাগন

ইসরায়েল শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নজরদারি করার চেষ্টা করছে, এমন আশঙ্কা করছে পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)

ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকির মাত্রা ‘গুরুতর’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে পেন্টাগন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই জানে যে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jun 2026, 04:12 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:21 PM

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির হুমকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন), জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।  

আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার এনবিসি নিউজ সর্বপ্রথম এই পরিবর্তনের খবরটি প্রকাশ করে। শনিবার প্রতিবেদন করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।  

এই গণমাধ্যমগুলো অজ্ঞাত সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সম্পর্কিত ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই পরিবর্তনটি করা হল।  

তারা জানিয়েছে, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এই সতর্কতার মাত্রাটি বাড়িয়েছে। কারণ তারা আশঙ্কা করছে যে ইসরায়েল শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নজরদারি করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ আলোচনা বুঝাই এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে তারা। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে যুদ্ধ বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গীতে প্রকাশ্য ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালিয়ে এ যুদ্ধ শুরু করেছিল। 

একদিকে দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ট্রাম্প বারবার বলছেন, তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান। অপরদিকে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও নেতানিয়াহু ফের যুদ্ধ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

ওই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে যুদ্ধ প্রায় বন্ধ হয়ে থাকলেও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা বারবার থমকে যাচ্ছে। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, এটা জানা থাকলেও ডিআইএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাবেক প্রশাসন গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানো শুরু করলে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ২০২৫ সালেও এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে আর ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর ইরানের বিষয়ে কী মনোভাব নেওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। 

সংবাদপত্রটি আরও জানায়, সাম্প্রতিক অন্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতেও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতি কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি এবং তার ডেপুটি চতুর্থ মাইকেল ডিমিনোর ওপর ইসরায়েলের নজরদারি প্রচেষ্টার প্রমাণ নথিভুক্ত হয়েছে।