Published : 27 Jul 2025, 01:40 PM
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিতে সোমবার জাতীয় সনদের প্রাথমিক খসড়া পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেছেন, "আমাদের লক্ষ্য জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা। সনদের প্রাথমিক খসড়া কমিশন তৈরি করেছে। আগামীকালের মধ্যে সে খসড়া দলগুলোকে পাঠানো হবে। আমরা মনে করি মতামত দিলে সেটা সন্নিবেশিত করা হবে।"
রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ঊনবিংশতম দিনের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন আলী রীয়াজ।
এদিন রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ সম্পর্কিত মূলনীতি এবং পুলিশ কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
খসড়া নিয়ে সংলাপে আলোচনা করা হবে না জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, "যদি বড় রকমের মৌলিক আপত্তি ওঠে, তাহলে আলোচনায় আনব, না হলে আনব না। আপনাদের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হলে তা সন্নিবেশিত করে প্রাথমিক সনদে.. সেখানে ভূমিকা পটভূমি থাকবে এবং কমিটমেন্টের জায়গা থাকবে।"
জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য সংলাপে একটি দিন বরাদ্দ করা হবে বলে জানান আলী রীয়াজ।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে কমিশনের সহসভাপতি বলেন, "১০টি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। ৭ বিষয় অসমাপ্ত আছে, ৩টি বিষয়ে আলোচনা হয়নি।"
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান, আইয়ুব মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত অক্টোবরে প্রথম ধাপে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়ে ফেব্রুয়ারি মাসে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে ৩৮টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত জানতে চায় ঐকমত্য কমিশন। দলগুলোর মধ্যে ৩৩টি তাদের মতামত দিয়েছে।
এরপর ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত দলগুলোর সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশনের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের সংলাপ শেষ করে ঐকমত্য কমিশন।
কোরবানির ঈদের আগে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়। এরপর ২ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা শুরু করে কমিশন, যা এখনো চলছে।
এই আলোচনায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা যুক্ত করে জাতীয় সনদ তৈরি হবে, রাজনৈতিক দলগেুলো তাতে স্বাক্ষর করবে।
এর অর্থ হল, জাতীয় সনদে যেসব সংস্কারের কথা লেখা থাকবে, সেসব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতে যে দলই ক্ষমতায় যাক না কেন, সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা সেভাবে সংস্কার এগিয়ে নেবে।
পুরনো খবর