Published : 21 Sep 2025, 08:30 PM
মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি শক্তির ‘ইন্ধন’ ছিল না বলে সাক্ষ্যের জেরায় বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় রোববার সাক্ষ্যের জেরায় নাহিদ এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে এ জেরা হয়।
৪৭তম সাক্ষী নাহিদকে জেরা করেন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রের নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
সাক্ষ্য শুরু হয় বুধবার; শেষ হয় রোববার দিনের প্রথম ভাগে। মাঝে বৃহস্পতিবারও সাক্ষ্য দেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ।
আইনজীবী আমির হোসেন জেরায় নাহিদ ইসলামকে বলেন, ৩ অগাস্ট সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল।
“দেশি-বিদেশি শক্তির ইন্ধন ছিল বিধায় আপনারা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।”
নাহিদ ইসলাম আসামির আইনজীবীর এ কথা সত্য নয় বলে জানান।
এর আগে নাহিদ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলেছিলেন, অগাস্টের ৪ তারিখ তারা মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাকে সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
জেরায় সাক্ষীকে আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যে আপত্তি জানান প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনকে কোনো চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, এর সঙ্গে এটা প্রাসঙ্গিক।
এরপর আসামির আইনজী আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ৫ অগাস্ট পদত্যাগ করেননি। বাধ্য হয়ে ভারতে চলে যান নাই।
এই জেরার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এটা সত্য নয় যে শেখ হাসিনা ৫ অগাস্ট পদত্যাগ করেন নাই এবং শেখ হাসিনা বাধ্য হয়ে ভারতে চলে যান নাই।”
নাহিদের বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধে তিনি নিজে কোনো মামলা করেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে নাহিদ বলেন, “যেসব অপরাধ করা হয়েছে, সেগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। এসব অন্যায় কেবল ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি না।“
পরে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশনের একজন সাক্ষী আছেন। এরপর রয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারপর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা সেদিন ভারতে চলে যান। একই বছরের ৮ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার বাকি দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।