উদারভাবে সীমান্ত খুলে দেব না: কাদের

“তখনকার বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে মানবিকতার জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”, ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেন আওয়ামী লীগ নেতা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Feb 2024, 03:15 PM
Updated : 8 Feb 2024, 03:15 PM

সাড়ে ছয় বছর আগে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবাধে ঢুকতে দিলেও এবার যে তা আর হচ্ছে না, সেটি জানিয়ে দিলেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে তারা জাতিসংঘে যাবেন।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসতে দিয়েছিল, এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

মিয়ানমারে লড়াইয়ের কারণে দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিপির কয়েকশ সদস্যের অনুপ্রবেশের পর তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপি রোহিঙ্গাদের প্রথম আসতে দেয়। যখন তারা ক্ষমতায় ছিল, তারা যে সুযোগ দিয়েছিল, সেটা কি তারা ভুলে গেছে?”

২০১৭ সালে সীমান্ত খুলে দেওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী যেটা করেছেন সেটা জাতিসংঘসহ সারা পৃথিবী প্রশংসা করেছে। তখনকার বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে মানবিকতার জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে জন্য তাকে ‘মানবতার মা’ বলা হয়।”

তবে আর অবাধে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে কাদের বলেছেন, “সীমান্তে অবস্থান আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। আমরা সীমান্ত উদারভাবে খুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নই এবং এ সুযোগ আমরা কাউকে দেব না। উদ্বেগের কথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘকে লিখিতভাবে জানাবে বাংলাদেশ।”

‘দুর্বল ও জনমত না থাকায়’ সরকার মিয়ানমার নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারেনি বলে বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এসেছে, তার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “তারা পাগলের প্রলাপ বকছে। এদের মাথা ঠিক নেই।

“তারা ভেবেছিলেন বিদেশি বন্ধু পাশে এসে দাঁড়াবে। সে আশা একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। আটলান্টিক ওপার থেকেও কোনো বার্তা আসেনি, আবার এই দিক থেকেও কোনো বার্তা আসেনি বা আসার কারণও নেই।”

বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ পশ্চিমাদের বক্তব্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আরও অনেক কিছুই হবে, তারা (বিএনপি) শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে। চেয়ে চেয়ে চোখের পানি ফেলবে।”

মিয়ানমারে সংঘাত ভারতে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভারতীয় সীমান্ত দিয়েও মিয়ানমারের বেশ কিছু লোকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ওদের সীমান্ত রক্ষীও গেছে। ইন্ডিয়া যে মাথা ঘামাচ্ছে না, তা না।

“ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দেওয়াল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে গেছেন। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে আছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকর এবং অজিত দেওয়ালের সঙ্গে এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ আলাপ আলোচনা করেছেন। এই আলোচনার মধ্যে মিয়ানমার ইস্যুটা গুরুত্ব পেয়েছে।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাব উদ্দিন ফরাজীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।