বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে কালো ব্যাজ পরারও পরামর্শ কাদেরের
"তারা (বিএনপি) সবকিছু হারিয়ে এখন শোক সাগরে নিমজ্জিত।”
ভোট বর্জনের আন্দোলনে বিফল বিএনপির নতুন কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের।
কালো পতাকা মিছিল করার সময় বিএনপিকর্মীদের তিনি কালো ব্যাজ পরারও পরামর্শ দিয়েছেন।
এক যুগের বেশি সময় ধরে সরকারপতনের আন্দোলনে থাকা বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেছেন, “কথার বোমা মেরে এই সরকারকে উৎখাত করা যাবে না।”
সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, "তারা (বিএনপি) সবকিছু হারিয়ে এখন শোক সাগরে নিমজ্জিত। নির্বাচনে হেরে গেছে, আন্দোলনে হেরে গেছে, নির্বাচন বর্জন করেছে। আমি শুধু বলব, কালো পতাকা মিছিলের সাথে কালো ব্যাজটাও ধারণ করতে। তাহলে ষোলআনা পূর্ণ হয়ে যাবে।"
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে জিতে টানা চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড় বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ভোটের দিন হরতাল করে।
ভোটের পর রোববার প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আগামী শুক্রবার সকল জেলা সদরে এবং শনিবার সকল মহানগরে তারা কালো পতাকা মিছিল করবেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা (বিএনপি) বিভিন্নভাবে সরকারবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। দেশে বিদেশে গুজব ছড়াচ্ছে। তাদের অগ্নি সন্ত্রাসের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে গুজব সন্ত্রাস। দেশে-বিদেশে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গুজব চালাচ্ছে। আজকে সারাবিশ্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অথচ বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যকে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি বলে অপপ্রচার করছে।
"আওয়ামী লীগ সরকার কচু পাতার উপর পানি যেমন, টাচ লাগলে পড়ে যাবে তেমন সরকার নয়। এই সরকারের শেকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে। এ সরকারের শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কথার বোমা মেরে এই সরকারকে উৎখাত করা যাবে না।"
ওবায়দুল কাদেরের ভাষায়, বিএনপি কতটা ‘দুর্বল’, সেটা তাদের আন্দোলন দেখেই বোঝা গেছে।
“নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা অংশ নেয়নি। সেখানে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তারপর নির্বাচন জনগণকে দিয়ে তারা বর্জন করাবে, সেখানেও তারা ব্যর্থ। রাজনীতিতে বিএনপি ভুলের চোরাবালিতে আটকে আছে।"
সত্যিই যদি বিএনপি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায়, তাহলে দলটিকে ‘মিস করেন কিনা’- এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সামনে।
জবাবে তিনি বলেন, “আন্দোলনের ব্যাপারে তারা সাবজেক্টিভ প্রস্তুতি গড়ে তুলতে পারেনি। তারা আগুন সন্ত্রাসের মতো জঘন্য সন্ত্রাসী পথ বেছে নিয়েছে সরকার পতনের জন্য। তারা কতগুলো ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে সরকারের কোনো লাভ হয়নি। তাদের কি লাভ হয়েছে জানি না, তারাই জানে।"
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, "সব দলই তো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল, তারা তো স্বাধীনতার বিপক্ষে। যে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না সে স্বাধীনতায়ও বিশ্বাস করে না। কাজেই ওইরকম বিরোধিতা আমরা চাই না। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সংসদে বিকৃত করবে, এমন আমরা প্রত্যাশা করি না।"
বিএনপি বলছে, সরকার স্বীকৃতির জন্য বিদেশে ধর্না দিচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, "নিকৃষ্ট মন-মানসিকতা থেকে এ ধরনের নিকৃষ্ট উচ্চারণ বিএনপি করতে পারে। তাদের দলের ভাষাই এটা। তারা যদি রাজনীতির ইতিবাচক ভাষা নিয়ে এগোতো। তাহলে তাদের হঠাৎ করে এরকম একটা পতন হত না। তারা সরকারের পতনের জন্য আন্দোলন করে এখন নিজেরাই পতনের খাদে পড়েছে।"
নির্বাচনে শরিকদের নৌকা প্রতীক দেওয়া এবং স্বতন্ত্রদের জন্য মাঠ উন্মুক্ত রাখায় আওয়ামী লীগের ক্ষতি হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "নির্বাচনে অনেক কিছু ওপেন করে দেওয়ার পরেও নৌকার জনপ্রিয়তা নৌকার জায়গায় রয়েছে। ২২৩টি আসন নৌকা পেয়েছে, তাহলে কীভাবে আপনি মনে করেন নৌকার জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
“গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সংঘাত সহিংসতা আমাদের দেশে হয়। কখনো বেশি কখনো কম। এবার নির্বাচনে খুব কি রক্তক্ষয় ঘটেছে? কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।"
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়কে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, "এটা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এটাতো একদিন দুই দিনের ব্যাপার নয়। খুব দ্রুত এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সবাই দেখতে পাবে। শুধু সরকারিভাবে নয়, দলীয়ভাবে ও আমাদের দলের আজ জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।"
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, পারভীন জামান কল্পনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
