ঢাকা, নভেম্বর ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২৪টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানিয়েছে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এসব সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন না দেওয়ার দাবি জানিয়ে রোববার প্রধান নিবাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে দল দুটি।
আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল দুপুরে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এইচ টি ইমাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কমিশন সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবিরের হাতে পেীঁছে দেয়। আর বিকালে বিএনপি'র যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান কমিশন সচিবের কাছে চিঠি পৌঁছে দেন।
নির্বাচন কমিশন গত ১৩ নভেম্বর ১৩৮টি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। এসব সংস্থার ব্যাপারে কারও আপত্তি থাকলে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে তা কমিশনকে জানাতে বলা হয়।
আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সদস্য সুভাষ সিংহ রায় সাংবাদিকদের বলেন, ২০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার বিরুদ্ধে দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছে তার দল।
দলের অন্য সদস্য রিয়াজুল কবির জানান, এসব সংস্থার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ থেকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়েছে চিঠিতে।
আওয়ামী লীগ যে ২০টি সংস্থার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে সেগুলো হলো- বিসিডিজেসি, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, ফেমা, জাগরণী চক্র, খান ফাউন্ডেশন, লাইট হাউজ, নোয়াখালী রুরাল ডেভলেপমেন্ট সোসাইটি, শরীয়তপুর ডেভলপমেন্ট সোসাইটি, সৃজনী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, এএমইউএবি, হিলফুল ফুজুল সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ন্যাশনাল ইয়্যুথ ফোরাম বাংলাদেশ, যুগায়ন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, ইউনিটি অব সোশ্যাল অ্যাডভান্টেজ, ব্রেভ, কোস্ট ট্রাস্ট, ডেভেলপমেন্ট অর্গনাইজেশন ফর দ্য পুওর, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র এবং এএনএফআরইএল।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, তার দল চারটি সংস্থার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে। তবে সংস্থাগুলোর নাম জানাননি তিনি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান জানান, পর্যবেক্ষণ নীতিমালা মেনে ১৩৮টি সংস্থাকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের জন্য বাছাই করা হয়েছে। যারা বাদ পড়েছে তাদেরকেও জানিয়ে দেওয়া হবে।
মোট ৩১৯টি সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল বলে কমিশন কর্মকর্তা জানান।
আসাদুজ্জামান জানান, নির্বাচন কমিশন সবার আপত্তি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করে সংস্থাগুলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য নিবন্ধন দেবে। নিবন্ধিত সংস্থাগুলো আগামী এক বছর কমিশনের সব নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/জেকে/এসকে/২১২৬ঘ.