বিএনপির পর অবরোধ ডাকল জামায়াতও

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল না জামায়াত। তবে ২৮ অক্টোবর থেকে দুই দল একই কর্মসূচি দিচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2023, 09:37 AM
Updated : 30 Oct 2023, 09:37 AM

যুগপৎ আন্দোলনে না থাকলেও বিএনপির সঙ্গে মিল রেখে হরতালের পর এবার অবরোধেরও ডাক দিল দলটির সাবেক শরিক জামায়াতে ইসলামী। তারাও মঙ্গলবার ৭২ ঘণ্টার সড়ক, রেল ও নৌ পথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে।

বিএনপির সিদ্ধান্ত আসার পর দিন সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম এই সিদ্ধান্ত জানান।

বিএনপি ও জামায়াতের দাবি এক।

জামায়াত নেতা বলেন, ‘‘সরকারের পদত্যাগ, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আমিরে জামায়াত শফিকুর রহমানসহ গ্রেফতারকৃত সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আলেম-ওলামার মুক্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি রোধ, ২৮ অক্টোবর বিরোধীদলের মহাসমাবেশে হামলা, সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের হত্যা এবং সরকারের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’’

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশের আগে আগে দলটি তার দেড় যুগের ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে জোটের সাবেক শরিকরা বিএনপির সঙ্গে মিল রেখে যুগপৎ কর্মসূচি দিলেও জামায়াত ছিল ‘হাত গুটিয়ে’। দুই দলের মধ্যে দূরত্বের বিষয়টি নিয়ে সে সময় গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়।

তবে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি ‘মহাসমাবেশের’ ডাক দিলে একই কর্মসূচি দেয় জামায়াতও। বিএনপিকে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দিলেও জামায়াতকে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু অনুমতি ছাড়াই দলটি রাজধানীর আরামবাগে জমায়েত করে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ দেন।

সেদিন নয়া পল্টনে বিএনপির কর্মসূচির অদূরে কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের পর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা হয়। এরপর সমাবেশ না করে বিএনপি দেয় হরতালের ডাক। এরপর জামায়াতও গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে একই কর্মসূচি দেয়।

রোববার হরতাল শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সরকারের পদত্যাগ এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে টাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, “দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঘোষিত অবরোধের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমি জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের জনশক্তি এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

গত শনিবার বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে হাঙ্গামার জন্য আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, ‘‘বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারগ্যাস, গুলি ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়। পুলিশের টিয়ারগ্যাস এবং গুলির আঘাতে সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ চার জন নিহত এবং কয়েক হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”

‘মহাসমাবেশ’ ও হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে সারাদেশে জামায়াতসহ বিরোধীদলের প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগও আনেন এটিএম মাছুম।