বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক সড়কে আবার অবরোধের ডাক
ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় দুই সংগঠন।
তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছে স্থানীয় দুই সংগঠন।
বুধবার দুপুরে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, “জেএসএসের (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের আগের স্থানগুলোতেই রয়েছেন। তারা সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছেন।
“গ্রামবাসীদের ব্যবহৃত ফোন কেড়ে নিয়েছেন। সাধারণ জুমচাষিরা ভয়ে জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করার কাজে যেতে পারছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোক দেখানো অভিযান চালালেও জেএসএসের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
এ লক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে; যা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত চলবে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে সংগঠন দুটির নেতারা।
বিবৃতিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত করা হয়েছিল। আজকে যেহেতু পূজা শেষ হচ্ছে, তাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আমাদের পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
“আমাদের যে তিন দফা দাবি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে।”
দুই সংগঠনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, জেএসএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। পরে তারা তিনটি দাবি জানিয়ে প্রশাসনের আশ্বাসে দুই দিন অবরোধ স্থগিত করে।
তবে দুই দিনের মধ্যে প্রশাসন অবরোধকারীদের দাবি পূরণ করতে না পারায় তারা আবারও ১৫ অক্টোবর অবরোধের ডাক দেন। পরে তারা দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
