‘কতল’ নিয়ে মোসাদ্দেক বিল্লাহর বক্তব্য ব্যক্তিগত, দলের নয়: ইসলামী আন্দোলন
“কারো ব্যক্তিগত অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যকে রং লাগিয়ে ব্যাখ্যা করে ইসলামী আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা অপ্রত্যাশিত।''
প্রকাশ্য জনসভায় ‘কতলের’ পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যে বক্তব্য সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী দিয়েছেন, তার দায় নিতে রাজি নয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি বলছে, ওই বক্তব্য মোসাদ্দেক বিল্লাহর আল মাদানী ‘ব্যক্তিগত’ অভিমত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তব্য নয়।
বুধবার ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।
ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্সের একজন সদস্য এবং বরিশালের চরমোনাই আহছানাবাদ রাশিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় তিনি ‘কতল’ (হত্যা) করার পক্ষে যুক্তি দেন।
তিনি বলেন, “এগুলারে পিডান লাগবে, কতল করা লাগবে, এগুলারে মাইর ছাড়া কোনো উপায় নাই। এগুলা দাওয়াতে ফেরবে না।”
ওই বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে তিন দিন পর ‘দুঃখ’ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন মোসাদ্দেক বিল্লাহ।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “আমি সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। তদুপরি, আমার এরূপ বক্তব্য কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা মহলের মনকষ্টের কারণ হয়ে থাকলে আমি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।''
তিনি এও বলেন, “আমার সেদিনের বক্তব্য বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে জনগণের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
মঙ্গলবার ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানকে উদ্ধৃত করে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
সেখানে বলা হয়, মোসাদ্দেক বিল্লাহ “সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু শব্দ উচ্চারণ করেছেন, যা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বক্তব্য নয়, মাওলানা মাদানীর ব্যাক্তিগত অভিমত।''
বক্তব্যের জন্য মোসাদ্দেক বিল্লাহর দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ''ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশের আইন মেনে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দীর্ঘদিন ধরে গঠনমূলক রাজনীতি করে আসছে।'
“ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গণমানুষের হৃদয় জয় করে জনমত গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তাই কারো ব্যক্তিগত অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যকে রং লাগিয়ে ব্যাখ্যা করে ইসলামী আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা অপ্রত্যাশিত।''
পুরনো খবর
