‘কতল’: দুঃখ প্রকাশ করলেন মোসাদ্দেক বিল্লাহ, দুষলেন সংবাদমাধ্যমকে
”আমি সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। তদুপরি, আমার এরূপ বক্তব্য কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা মহলের মনকষ্টের কারণ হয়ে থাকলে আমি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।''
প্রকাশ্য জনসভায় ‘কতলের’ পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দেওয়া বক্তব্যের জন্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীর দাবি সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য ’যথাযথভাবে’ উপস্থাপন করা হয়নি।
সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন তিনি।
এতে তিনি বলেন, “আমার সেদিনের বক্তব্য বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে জনগণের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
”আমি সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। তদুপরি, আমার এরূপ বক্তব্য কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা মহলের মনকষ্টের কারণ হয়ে থাকলে আমি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।''
বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্সের একজন সদস্য এবং বরিশালের চরমোনাই আহছানাবাদ রাশিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য।
সবাইকে শুধু আহ্বান জানিয়ে হবে না, প্রয়োজনে মারধর, এমনকি ‘কতল’ করার কথাও বললেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী।
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তবে তিনি ‘কতল’ (হত্যা) করার পক্ষে যুক্তি দেন।
তিনি বলেন, “এগুলারে পিডান লাগবে, কতল করা লাগবে, এগুলারে মাইর ছাড়া কোনো উপায় নাই। এগুলা দাওয়াতে ফেরবে না।”
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ১৮ নভেম্বর সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্স পুনর্গঠন করে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইসলামের সমুন্নত আর্দশ ও মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে নানা কাজ করে থাকে বলে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে।
তার এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরির তিন দিন পর বিজ্ঞপ্তিতে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের কথা তুলে ধরে বলেন, ''ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামি মূল্যবোধের প্রচার-প্রসারের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতে তাদের এভূমিকা অব্যাহত থাকবে, ইনশাল্লাহ।''
