Published : 28 Aug 2025, 10:39 PM
জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর ইসলাম আদীব।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।
এর প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যা ৭টায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এনসিপির তরফে এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে।
দুই ধাপে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের এই সংলাপের পর জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কার ও বিচার শেষ করার দাবি জানায় এনসিপি। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চায়। তবে নতুন সংবিধান লিখতে আবারও গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে দলটি।
এমন প্রেক্ষাপটে গেল ৫ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ দিল।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা আদীব বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রকাশের আগেই সরকারের সংস্কার বিষয়ক পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে।
“কিন্তু আমরা হতাশার সাথে লক্ষ্য করছি অজানা কারণে ঐকমত্য কমিশনের পরবর্তী দফার বৈঠক পেছানো হয়েছে এবং এখনো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপায় নির্ধারিত হয়নি।”
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।”
“আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন, আমরা কোনোভাবেই নির্বাচন বিরোধী নই। সেদিক থেকে রোডম্যাপ ঘোষণা ইতিবাচক। যত দ্রুত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হবে, তত দ্রুত নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে। সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে,” বলেন আদীব।
এক প্রশ্নের উত্তরে আদীব বলেন, “ঐক্যমত কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো গণপরিষদ বা সংবিধান সভা কিংবা গণভোটের কথা বলেছিল। সেই আলোচনা এখনও চলমান। সরকার জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছে। তাহলে আগামী সপ্তাহে গণপরিষদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে যে আলোচনা দলগুলোর সঙ্গে হওয়ার কথা তা পারস্পরিক সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”
আগের দিন এ রোডম্যাপে অনুমোদন দেয় এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এতে দুই ডজন কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপের কথাও রয়েছে।
মত বিনিময়, মিটিং, ব্রিফিং, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, বাজেট বরাদ্দ, আইটিভিত্তিক প্রস্তুতি, প্রচারণা, সমন্বয় সেল, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে যাবতীয় কর্মপরিকল্পনা মাথায় রেখেই রোডম্যাপটি করেছে ইসি।
‘উঠানে নতুন সংবিধান’
এদিকে নতুন সংবিধান ও গণপরিষদ নির্বাচনে পক্ষে জনমত গঠন এবং বিচার ও সংস্কারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি।
‘উঠানে নতুন সংবিধান’ শিরোনামের এই কর্মসূচি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহলে বলেন, আগামী ২৯ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয়টি বিভাগে ২৭টি উপজেলায় উঠান বৈঠক ও সাংগঠনিক সভা করবে এনসিপি।
তিনি বলেন, “নতুন সংবিধানের দাবিকে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্যে। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খাকে বাস্তবে রূপদানের মাধ্যম হিসাবে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলার পূর্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি এনসিপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলাপও করা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।