তিনশ আসনে প্রার্থী দিতে চায় বিএনএম
আগামী মাসে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও করছে সম্প্রতি নিবন্ধন পাওয়া দলটি।
জনগণের স্বার্থে নির্বাচন হলে তাতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে নতুন নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) বলছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায়।
ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথাও জানিয়েছেন দলটির আহ্ববায়ক অধ্যাপক আব্দুর রহমান খোকন।
শনিবার মহাখালীতে দলের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন বিএনএমের নেতারা। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনএমের পাশাপাশি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকেও (বিএসপি) নিবন্ধন দেয় ইসি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নতুন দল বিএনএম এর আহ্ববায়ক অধ্যাপক খোকন বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের সকল শর্ত মেনেই আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। উপজেলা, জেলা পর্যায়ে অফিস ও কমিটি রয়েছে। সেই তালিকা আমাদের কাছে আছে, চাইলে আপনারাও দেখতে পারেন।
‘‘যারা আমাদের সমালোচনা করছেন তাদের রুচি নেই। রুচিহীনরাই কথা বলছেন।’’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘জনগণের স্বার্থে নির্বাচন হলে বিএনএম আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সাড়া দেশে ৩০০ আসনেই আমরা প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছি।’’
বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসা দলটি আগামী মাসেই কাউন্সিল করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরিকল্পার কথাও জানিয়েছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে বা আগামী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নভেম্বরে যার তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এবার নিবন্ধন পেতে ৯০টির বেশি দল আবেদন করেছিল। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে স্বল্প পরিচিত বিএনএমসহ দুটি দলকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নামের সঙ্গে মিল রেখে দলের নামকরণ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে বিএনএম এর আহ্বায়ক খোকন বলেন, ‘‘জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হলেও দেশে বেশির ভাগ জায়গায় জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি। তাই দলের নামে জাতীয়তাবাদ রাখা হয়েছে।’’
কোনো দলকে বা বিএনপিকে ভাঙা তাদের উদ্দেশ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনএম এর সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘‘জাতীয়তাবাদ শুধু বিএনপির একার নয়। জাতীয়তাবাদ পরিচয় নিয়েই আমরা দল গঠন করেছি। বাংলাদেশ নাম দলের সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। তাই কিছুটা মিল থাকতে পারে বিএনপির সঙ্গে।’’
যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন বলেন, বিএনএমের লক্ষ্য দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি করা।
চলতি মাসের শেষ নাগাদ বড় পরিসরে জানান দিতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে করবে বিএনএম।
বিএসপির শ্রদ্ধা নিবেদন
এদিকে নিবন্ধন পাওয়া অপর দল বিএসপি শনিবার মোটর শোভাযাত্রা করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে দলটি বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
সমাবেশে দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আমাদেরকে কে চিনল আর কে চিনল না তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।
`` নির্বাচন কমিশনের আরপিওতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধানে কোথাও লেখা নাই একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে হলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ সেই দলকে চিনতে হবে। ‘’
তিনি বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ আয়োজনে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সংলাপ রাষ্ট্রপতির অধীনে করার দাবি তোলেন তিনি।
সমাবেশে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক আকন্দ, অতিরিক্ত মহাসচিব মুফতি বাকী বিল্লাহ আল আযহারী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শায়খ আজমাঈন আসরারসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
