Published : 30 Dec 2025, 07:29 PM
যে ভবনে বসে সাত বছর ধরে দলের কার্যক্রম সামলেছেন খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের সেই কার্যালয়ে তার জন্য খোলা হয়েছে শোক বই।
বিএনপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার বিকালে এ শোক বই খোলা হয়েছে। এ বইয়ে কূটনীতিকদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ সই করতে পারবেন।
এরপর এ বইয়ে শোক প্রকাশ করতে এসেছেন রাজনীতিক, কূটনীতিক, চিন্তক, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষ।
বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য বলছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত শোক বইয়ে সই করেছেন চীন, ভারত, পাকিস্তান, জার্মানি, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, কাতার, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রুনাই ফিলিস্তিন, স্পেন, মরক্কো, ভুটান, ব্রাজিলসহ ২৮টি দেশের কূটনীতিক।
আরেকটি শোক বইয়ে সই করেন চিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এটিএম ওয়াহাব, সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে গুলশান কার্যালয়ে বসতেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানোর আগ পর্যন্ত সেখানে নিয়মিত পদচারণা ছিল খালেদা জিয়ার।
বিএনপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শোক বই খোলা থাকবে। এছাড়া বুধবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে শোক বইয়ে সই কর্মসূচি চলবে।
কোভিড মহামারীর সময় ২০২০ সাল থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া সাময়িক মুক্ত হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেত্রী পুরোপুরি মুক্ত হলেও তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফলে তিনি আর কার্যালয়মুখী হতে পারেননি।
গত ৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী; আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।