১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শুভেন্দুকে থামাতে ভারতকে আহ্বান বিএনপির এমপি সিরাজের

“স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের যে প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না।”

শুভেন্দুকে থামাতে ভারতকে আহ্বান বিএনপির এমপি সিরাজের
সংসদে সোমবার বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jun 2026, 08:58 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:28 PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দুই দেশের ‘বন্ধুত্বের অন্তরায়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংসদে দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি শুভেন্দুকে থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জিএম সিরাজ বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। সবিনয়ে একইসঙ্গে আমি বলতে চাই, পশ্চিমবঙ্গের যে শুভেন্দু বাবু, তাকে থামান। বাংলাদেশবিরোধী যেসব বক্তব্য আসছে মাঝেমধ্যে, যে সমস্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, এই বক্তব্য বাংলাদেশ এবং ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে গেছে।”

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নাই। বাংলাদেশে উনি নাই হয়ে গেছে।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বগুড়া ৫ আসনের সংসদ সদস্য সিরাজ বলেন, “আমরা সবাই চাই, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের যে প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।”

ঢাকায় ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী  সম্প্রতি দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই সদস্য বলেন, “তিনি বলেছেন, ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে।’ আমরা বলতে চাই, আসুন মানুষের হৃদয় জয় করুন। ভারতের মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারতবিরোধিতা অথবা বাংলাদেশবিরোধিতা এগুলো না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি, আপনারা দয়া করে পুশ ইন বন্ধ করুন।”

পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাদক উৎপাদন ও পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “মাদক সর্বগ্রাসী। কিন্তু এই মাদক আসে কোথা থেকে? বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্তে বহু কারখানা রয়েছে। দয়া করে মাদকের কারখানাগুলো বন্ধ করুন।”