Published : 05 Nov 2025, 05:41 PM
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে তা দূর করতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ‘সাহসী ভূমিকা’ দেখতে চাইলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তার ভাষ্যে, “সরকার সংস্কারের ব্যাপারে যদি সাহসী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না এবং সরকারও তার ম্যান্ডেটচ্যুত হয়ে পড়বে।
“আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সর্বাগ্রে থেকে সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করবেন।”
রাজনৈতিক মতানৈক্য দূর করতে বুধবার দুপুরে ঢাকার পল্টনে গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে এবি পার্টি, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ।
বৈঠক শেষে আখতার হোসেন বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি সবসময় আলোচনার পক্ষপাতী। আমরা জুলাই সনদ স্বাক্ষর না করলেও পরবর্তীতে আমরা ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছি এবং আরো যত রাজনৈতিক দল আছে, তাদের সাথে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিল—তারা সকলে মিলে এই সংকট মোকাবেলা যেন করতে পারি; সেই লক্ষ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, এনসিপি আমরা সকলে মিলে একত্রে বসেছি।
“আমাদের মাঝে অনেকগুলো বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা চাই বর্তমান সংস্কার নিয়ে যে সংকটের উদ্ভব হয়েছে, সেটা যেন সুস্থভাবে সমাধান হয়। এবং এই জায়গাটাতে আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা রয়েছে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আগামী সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে হবে নাকি আগেই হবে— এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতসহ কয়েকটি দলের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার উপদেষ্টা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে দলগুলোর কাছ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে ‘ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা’ চেয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, “সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে জুলাই সনদের ভার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
“আমরা মনে করি, এটা এই সরকারের কর্তব্য; তারা এই সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদেরকে এই সংস্কার শেষ করতে হবে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
বিএনপিসহ কয়েকটি দল চাইছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হোক। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণভার থাকুক নির্বাচিত সংসদের ওপর।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল দাবি তুলেছে, নভেম্বরেই গণভোট আয়োজন করতে হবে। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ আসতে হবে প্রধান উপদেষ্টার হাত ধরে।
দলগুলোর এমন অনড় অবস্থানের মধ্যে গেল সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ঐকমত্য কমিশন যে সুপারিশ জমা দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। সেখানে সংসদ নির্বাচনের দিন বা আগেই গণভোট করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের’ দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানায়।
গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আমরা দেখেছি, একেকটা দল একেক ফরমুলা দেখায়, আর সরকারের ওপর চাপ পড়ে। আর তখন বলে, সরকার তো এর কথা মতো কাজ করেছে। আমরা যদি এখন নতুন ফর্মুলা বলি, তখন আবার নতুন ঝামেলা তৈরি করবে।
“তখন এই অহেতুক বিতর্ক এড়ানোর জন্য আমরা চিন্তা করেছি, আমরা এখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— আমরা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব।
“আমরা ইন প্রিন্সিপাল মনে করি, এই আলোচনার দরকার ছিল না। সরকারের সঙ্গে এনাফ আলোচনা হয়ে গেছে। এখন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেই পারে। কারো সঙ্গে আলাদা কথা বলার দরকার পড়লে সরকার আলাদা বলে নিলেই হত।”
তবে সরকার যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দায়িত্ব দিয়েছে, তাই তারা উদ্যোগী হয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে ভাষ্য মঞ্জুর।
জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ২০২২ সালের ৮ অগাস্ট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামে জোট হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। পরে গণঅধিকার পরিষদ এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়।