Published : 22 Jun 2026, 08:38 PM
বাজেটের প্রতিবাদে বিরোধী দলের কর্মসূচিকে ‘মবোক্রেসি’ বলায় জাতীয় সংসদে আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা।
তবে শব্দটি এক্সপাঞ্জের দাবি নাকচ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ; তার ভাষ্য, শব্দটি ‘অসংসদীয় নয়’।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বিরোধী দলের বাজেট প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করতে গিয়ে ‘মবোক্রেসি’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের অপোজিশনে যারা বসে আছেন তারা কখনো বলার চেষ্টা করছেন, ছায়া বাজেট দিয়ে সাহায্য করেছেন, আবার দেখা যায় তারা বাজেট প্রকাশিত হওয়া অবস্থায় একটা ব্যানার নিয়ে ‘মানি না মানবো না’ বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। এটা একটা মবোক্রেসি মাননীয় স্পিকার।”
তার বক্তব্য শেষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য যথেষ্ট সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু উনি উনার বক্তব্যের মাঝে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী যে মিছিল করেছে, প্রতিবাদ করেছে, সেটাকে তিনি ‘মবোক্রেসি’ বলেছেন। আমি এই শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার জন্য আপনার মাধ্যমে অনুরোধ করছি।”
জবাবে স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্য, এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। আপনার যখন বাজেটে বলার টার্ন আসবে তখন এটা ভালোভাবে জবাব দেবেন। এখন এটা এক্সপাঞ্জ করার মত কোনো কিছুই না।”
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, “মবোক্রেসি শব্দটা কোনো ভালো মিনিং ক্যারি করে না। ডেফিনিটলি এটা একটা অবজেকশনেবল শব্দ। এবং আমার ধারণা তিনি খেয়াল করলে এটা বলতেন না, বেখেয়ালে বলে ফেলেছেন।”
তিনি বলেন, “এই ধরনের বাজেটের প্রতিক্রিয়া আমরা করি নাই। এর আগে সেভারেল টাইমস আমরাও করেছি, বিএনপিও করেছে, অনেকেই করেছে। তাহলে কি সবকিছুই মবোক্রেসি ছিল? আমার মনে হয় এই শব্দটা এখানে বেমানান এবং এটা এক্সপাঞ্জ করাই উচিত।”
তবে স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বলেন, “মবোক্রেসি এখন একটা কমন টার্ম হয়েছে। সবার বক্তৃতাতেই এটা শোনা যায়। এটা কোনো অশ্লীল শব্দ না। এটা অসংসদীয় কোনো কিছু বলে আমি মনে করি না।
“আপনারাও এ বক্তব্য ইউজ করতে পারেন। এটা রাজনীতিতে নিন্দনীয়, ডেমোক্রেসির বিরুদ্ধে; কিন্তু এটা একটা অশ্লীল শব্দ না। সংসদে এক্সপাঞ্জ হওয়ার মত শব্দ না।”