নেতারা গুলি খাওয়া শিখে গেছে, ভয় নাই: মির্জা আব্বাস

“এই যে মামলা-মোকাদ্দমা, এই যে গোলাগুলি এতো সহজেই আমরা ছেড়ে দেব না,” বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 02:15 PM
Updated : 12 Sept 2022, 02:15 PM

সরকার হটাতে এবার ‘ভিন্ন প্রক্রিয়ায়’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নেতারা গুলি খাওয়া শিখে গেছে, ভয়ের কোনো কারণ নাই।

তিনি বলেন, “আন্দোলনের ভিন্ন রূপ হবে, আন্দোলনের ভিন্ন কায়দা হবে। আন্দোলন কখনো এক রকম চলে না, অবস্থা বু্ঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোমবার বিকালে সেগুনবাগিচায় এক সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, “এই যে মামলা-মোকাদ্দমা, এই যে গোলাগুলি এতো সহজেই আমরা ছেড়ে দেব না। আপনারা ভাবছেন, এরশাদের সময় আন্দোলন হয়েছে এরকম-ওটা ছিলো এক প্রক্রিয়া। এখন যে আন্দোলন হচ্ছে। সুতরাং আমরা ভিন্ন প্রক্রিয়া নেব।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে চাল-ডাল-তেলের যে ঊর্ধ্বগতি এটা আর কোনোদিন কমবে না। এদেরকে সরাতে হবে, এদের ক্ষমতা থেকে হটাতে হবে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা না পর্যন্ত এই আন্দোলন শেষ হবে না।”

বিএনপিকে বড় জায়গায় সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না অভিযোগ করে ঢাকার সাবেক মেয়র বলেন, “আমরা একদিন ঢাকা শহরের প্রতিটা অলিতে-গলিতে মিছিল করবো। সেদিন আপনাদের কি অবস্থা হয় আমরা দেখবো। রাজপথ আমরা কিন্তু আপনাদের হাতে ছেড়ে দেবো না। রাজপথ ইনশাল্লাহ আমরা দখল করব।

“সময় এসে গেছে। বিএনপির নেতারা, ছাত্রদল নেতারা, যুব দল নেতারা গুলি খাওয়া শিখে গেছে। সুতরাং ভয়ের কোনো কারণ নাই। বুকে পেতে দেবো, গুলি খাব কিন্তু রাজপথ ছেড়ে যাবো না- এটা আমাদের শপথ।’’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শাহবাগ-রমনা থানা শাখার উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম এবং নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান হত্যার প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, “সামিট গ্রুপের আজিজ খান, আওয়ামী লীগের ফারুক খানের ভাই, আপনারা সবাই জানেন। সেদিন দেখলাম সিঙ্গাপুরে বড় ধনীদের মধ্যে একজন।

“এরকম যে গরীব দেশের কত ধনী আছে যারা বিদেশে থাকে, দেশে টাকা আছে। কেন?

“কয়েকদিন আগে না আপনারা তাদেরকে ছাড় দিলেন যে, বিদেশ থেকে টাকা আনলে তাদের কর ছাড় দেওয়া হবে। টাকা এসে কি এসেছে বলতে পারবেন? আসে নাই।”

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা বিদেশে টাকা নিয়ে গেছে এখন সেখানে তাদেরকে জবাব দিতে হচ্ছে যে, এই টাকার ট্যাক্স কই? ট্যাক্স দিয়েছেন? দেন নাই। তাহলে টাকাটা হালাল হচ্ছে না, এই টাকাটা জায়েজ করা যাচ্ছে না।

“এই টাকাটা জায়েজ করার জন্য তাদেরকে একটা সুযোগ দেওয়া হল, বাজেটে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে অর্থাৎ বিদেশে যদি তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় তখন তারা বলবে যে, আমরা দেশে ট্যাক্স দিয়ে এসেছি। এই হচ্ছে সরকারের অবস্থা।”

তিস্তাসহ বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে কোনো আলোচনা না হওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্মআহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য এম হান্নানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, যুব দলের গোলাম মওলা শাহিন, শ্রমিক দলের সুমন ভুঁইয়া, মহিলা দলের রুমা আখতার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক