‘বড় জমায়েতের’ আগে যমুনার সামনেই জুমার নামাজ
কেউ জায়নামাজ, কেউ বাংলাদেশের পতাকা, কেউ রুমাল বিছিয়ে রাস্তার ওপর জুমার নামাজ সারেন।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাত থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনেই জুমার নামাজ পড়েছেন।
তাদের বড় অংশটি যমুনার দেড়শ মিটার দূরে তিন রাস্তার মোড়ে তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়েছেন সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য।
গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে যমুনার সামনে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ডাকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা দেন, বাদ জুমা যমুনার পূর্ব পাশে ফোয়ারার সামনে হবে আরও বড় জমায়েত।
সেই সমাবেশে অংশ নিতে বেলা ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশে মিন্টো রোডের মুখে ফোয়ারার সামনের তৈরি মঞ্চের কাছে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।
এরপর শখানেক বিক্ষোভকারী আবার যমুনার সামনে ফিরে যান। বেলা সোয়া ১টার দিকে তারা সেখানেই জুমার নামাজ পড়েন।
কেউ জায়নামাজ, কেউ বাংলাদেশের পতাকা, কেউ রুমাল বিছিয়ে রাস্তায় নামাজের প্রস্তুতি নেন। নামাজে ইমামতি করেন এনসিপি নেতা মাওলানা সানাউল্লাহ।
এদিকে নামাজ শুরুর আগেই মিন্টো রোডের সামনে যমুনায় প্রবেশের মুখে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন পুলিশ ও সেনাসদস্যরা।
এর মধ্যে কিছু বিক্ষোভকারী সমাবেশস্থল থেকে যমুনার সামনে গিয়ে নামাজে যোগ দিতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। মিনিট দশেক বাগবিতণ্ডা করে ও স্লোগান দিয়ে পরে ফোয়ারার সামনেই তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যান।
এনসিপির তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চের সামনেও নামাজ পড়েন বিক্ষোভকারীদের আরেকটি অংশ।
জুমার নামাজের পর 'বড় জমায়েতের' ডাক দিয়ে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে তাতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সমাবেশের জন্য পাঁচটি ট্রাক একসঙ্গে করে উপরে সামিয়ানা টানিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়।
নামাজের পর সবাই একযোগে মঞ্চস্থলে জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
যমুনার সামনে সকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আপনারা রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে উপদেষ্টা হয়েছেন। সুতরাং, আপনার যদি মনে করেন- আপনার আপনাদের কূটচালের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসন করবেন, সেটির চেষ্টা হয়েছিল বিধায় আজকে আবার আমরা যমুনার সামনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি।
“আজকে বাদ জুমা ফোয়ারার সামনে থেকে আমরা ইন্টার কন্টিনেন্টালের যে রাস্তা রয়েছে, যে রাস্তা বাংলামোটর পর্যন্ত গিয়েছে এই পুরো রাস্তা আমরা জনসমুদ্রে পরিণত করব।”
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ সেখানে বলেন, “অবশ্যই দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র-জনতার এই দাবিকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশের জনগণের দাবি বাস্তবায়ন করবেন।”
বুধবার রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগের পর থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সরব হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষ।
হাসনাতের নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে বিক্ষোখে সংহতি প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রাত ১টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি মিছিল যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেয়।
রাতে বিক্ষোভ শুরু হলে কাকরাইল মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, মিন্টো রোডের মোড় থেকে পুলিশ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করে।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য যমুনার সামনে ব্যারিকেডের সামনে ও পেছনে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। তবে ছোট ছোট মিছিলগুলোকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়।
