Published : 07 Jun 2025, 02:18 PM
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামী বছর যে সময়টায় নির্বাচন দেওয়ার কথা বলছেন, সেই এপ্রিল মাসকে কোনোভাবেই ‘ভোটের উপযোগী’ ভাবতে পারছেন না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “এখানে (এপ্রিল মাসে) আপনার প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ওই সময়টা রোজার পরপরেই, পাবলিক পরীক্ষা আছে। সময়টা খুব চিন্তা করে দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয় না।”
শনিবার কোরবানি ঈদের সকালে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুলের এমনর মন্তব্য আসে।
আগের দিন শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি যে আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যে কোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে।”
ওই ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করে রাতে বিএনপির তরফ থেকে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
শুক্রবার শেরেবাংলা নগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “যে সময়টা (এপ্রিল মাস) নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই সময়টা বাংলাদেশে নির্বাচনের জন্য সঠিক সময় নয়।”
আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোজা শুরু হয়ে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলবে। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফখরুল বলেন, “নির্বাচনি প্রচার করতে হবে রোজার মাসে, যেটা ডিফিকাল্ট হবে। আমাদের যে রিমার্কস, সেটা আমাদের স্ট্যাডিং কমিটি গতকাল রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতামত জানিয়েছেন। আমরা মনে করি যে, ডিসেম্বরই নির্বাচন হওয়া সম্ভব এবং সেটাই জাতির জন্যে সবচেয়ে উপযোগী হবে।”

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তিনবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে। আর ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও মার্চ মাসে হয়েছে দুটি করে নির্বাচন। একটি নির্বাচন হয়েছে মে, জুন ও অক্টোবর মাসে। এপ্রিলে কখনো নির্বাচন হয়নি।
নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জনগণের প্রত্যাশা ‘পূরণ হয়নি’ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছিলাম, জনগণের প্রত্যাশাও তাই ছিল “
বিএনপি মহাসচিব এদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবদুল হালিম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, মীর নেওয়াজ আলী, আমিনুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে কারাগারে যাওয়ার আগে প্রতি ঈদে তার স্বামী জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতেন। তার পর থেকে দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরেই দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দলের পক্ষ থেকে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে থেকে আমি দেশবাসীকে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
“এই দিনে আমরা ত্যাগের মাধ্যমে সত্যকে অন্বেষণ করি এবং মহান আল্লাহতালার কাছাকাছি আমরা পৌঁছাতে চাই। কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কোরবানি’র একটি লাইন আছে যে, “ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ’, শক্তির উদ্বোধন”’।
“এ দিন (ঈদুল আজহা) সত্যিকার অর্থেই আমাদের ত্যাগ করতে শেখায়, মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, আমাদেরকে আরও মহৎ পৃথিবী গড়ে তুলবার শিক্ষা দেয়।”